রোড রোলার আটকে ‘কাটমানি’র দাবি ২ তৃণমূল নেতার! বিস্ফোরক অভিযোগ ঠিকাদারের

Purba Bardhaman

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে বাকি মাত্র আর কয়েক মাস, তারপরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই ভোট প্রচারের ময়দানে উঠে পড়ে লেগেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীদলের রাজনীতিবিদরা। এমতাবস্থায় পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman) ফের কাটমানির অভিযোগ উঠে আসলো তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, সরকারি উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের জন্য কাট মানির দাবি করল পূর্ব বর্ধমানের দুই তৃণমূল নেতা। রোড রোলার আটকে ঠিকাদারের কাছে টাকা চাইছে তাঁরা, আর এই অভিযোগ প্রকাশে আসতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়।

কাজের যন্ত্রপাতি আটকে কাটমানি আদায়

রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের এক নং ব্লকে সরাইটিকর থেকে নতুনগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের বরাত পেয়েছিলেন জেলা পরিষদের ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদ। তার জন্য বরাত ছিল ১২ লক্ষ টাকা। কিন্তু গত ১৮ ডিসেম্বর কাজ সম্পূর্ণ হলেও বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য ও সরাইটিকর তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বাবু হাজরার নির্দেশে তাঁর রোড রোলার-সহ কাজের যন্ত্রপাতি আটকে রাখা হয়েছে। দাবি একটাই, আর তা হল এক লক্ষ টাকা কমিশন না দিলে ওই সব সামগ্রী ছাড়া হবে না। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ফের শাসকদলের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ উঠল।

অভিযোগ অস্বীকার দুই তৃণমূল নেতার

সরকারি উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের জন্য কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেছেন, কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সুর তোলেন সরাইটিকর তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বাবু হাজরা। এদিকে এই ঘটনায় তদন্তের আবেদন জানিয়ে জেলা পরিষদ, বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এই প্রসঙ্গে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: পার্কিং জোন নিয়ে মহা সমস্যা! সাধারণের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল চুঁচুড়া পুরসভা, আনা হল একাধিক পরিবর্তন

ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদ বলেন, ‘‘রোড রোলার-সহ রাস্তা নির্মাণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আটকে রাখায় আমার ক্ষতি হচ্ছে। বিনা কাজে আমাকে ভাড়া গুণতে হচ্ছে।’’ শাসকদলের এই অপকাণ্ডের ঘটনা রটতেই বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দেও একরাশ কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘‘টেন্ডার ডাকা থেকে তা পাশ সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতাদের কাটমানি দিতে হয়। সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের উপর জুলুমবাজি করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ ভাবে শেষ কামড় দিচ্ছে।’’

1 thought on “রোড রোলার আটকে ‘কাটমানি’র দাবি ২ তৃণমূল নেতার! বিস্ফোরক অভিযোগ ঠিকাদারের”

Leave a Comment