এবার জাপান সাগরে ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার!

North Korea Missile Test

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের উত্তেজনা বাড়াল উত্তর কোরিয়া। রবিবার সকালবেলা দেশের রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল কিম জং উনের দেশ (North Korea Missile Test)। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭:৫০ মিনিট নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। হ্যাঁ, দুই মাস পর উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঠিক এমন সময় ঘটল, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চিন সফরে যাচ্ছেন।

নজরে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী কোনও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় নজরদারি এবং সর্তকতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলেও খবর। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে পড়েছে। সবথেকে বড় বিষয়, এর আগে গত নভেম্বর মাসে শেষবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

আরও পড়ুন: ভারতে T20 বিশ্বকাপ বয়কট থেকে IPL ব্যান! বড় সিদ্ধান্তের পথে বাংলাদেশ

এদিকে উৎক্ষেপণের ঠিক আগের দিন শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের শীর্ষ নেতা কিম জং উন একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে ট্যাকটিক্যাল গাইডেড অস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগণের বেশি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর সাম্প্রতিক সময়গুলিতে কিম একের পর এক অস্ত্র কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনও পরিদর্শন করেছিলেন। এদিকে বিভিন্ন অস্ত্র পরীক্ষা তদারকি করেছেন তিনি। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের নবম ওয়ার্কার্স পাটি কংগ্রেসকে সামনে রেখেই এই তৎপরতা। এমনকি সেখানে ভবিষ্যতের নীতিগত লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: হতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন ঘোষণা! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের জন্য বড় আপডেট

চিন সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রসঙ্গত, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এর চিন সফর। হ্যাঁ, বেজিংয়ে তাঁকে স্বাগত জানাবেন চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। আর এ নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক জানিয়েছেন, কোরিয় উপদ্বীপে শান্তি ফেরাতে চিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিল সিউল। কিন্তু বৈঠকে নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ ফেরানোর জন্যই চিনের সহায়তা চাইছে লি। এখন দেখার, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায়।

Leave a Comment