প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে এখনও বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাতে কি? নির্বাচনী প্রচার এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি। এদিকে SIR আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। শুধু তাই নয়, SIR এর খসড়া তালিকায় অনেকের নাম না থাকায় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এমনকি শুনানির (SIR Panic) জন্য ডাক পড়ছে অনেক অসুস্থ মানুষের। আর এই আবহে ঘটল আরেক বিপদ। নাকে রাইলস টিউব লাগিয়ে শুনানি থেকে বাড়ি ফিরতেই মৃত্যু হল ৬৮ বছরের বৃদ্ধের।
SIR নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত বৃদ্ধ
রিপোর্ট মোতাবেক, ২০০২ সালের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের গড়দেওয়ানি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ঠাকুরেচক এলাকার বাসিন্দা ৬৮ বছরের নাজিতুল মোল্লা। তারপরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। মাঝে ২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল বৃদ্ধকে। এমন সময়ে তাঁর নামে SIR এর নোটিস যায় বাড়়িতে। পরে গত ২৮ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয় নাজিতুলকে। নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। এর পর নোটিস অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু শুনানি থেকে বাড়ি ফিরে আসতেই ঘটল বিপদ।
শেষ রক্ষা হয়নি বৃদ্ধের
জানা গিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর শুনানি থেকে বাড়ি ফিরে আসতেই ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় নাজিতুল মোল্লার। তাই বাড়িতে না রেখে পরিবারের সদস্যেরা ২ জানুয়ারি আবার হাসপাতালে ভর্তি করান বৃদ্ধকে। কিন্তু কিছুতেই তাঁর প্রাণ বাঁচানো যায়নি। গতকাল অর্থাৎ শনিবার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই এসআইআর নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার উপর শুনানির ধকল সহ্য করতে পারেননি, আর তাতেই এই মৃত্যু। পরিবারের এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাই বলা যায় SIR আবার কেড়ে নিল আরেকজনের প্রাণ।
আরও পড়ুন: বেলেঘাটায় যৌন লালসার শিকার ৩ বছরের শিশুকন্যা, রেল লাইনের ধারে যা হল …
প্রসঙ্গত, SIR এর শুনানিতে অসুস্থ মানুষদের বিশেষ কেয়ার নেওয়ার ক্ষেত্রে সরব হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বেশ তর্কাতর্কিও হয়েছিল। এমনকি কমিশন নিয়ম করে দিয়েছিল যে অসুস্থদের ভার্চুয়াল শুনানি হবে, এমনকী শুনানির দিন আলাদাও হতে পারে। কিন্তু তারপরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এবার তাই ফের এই নিয়ে উঠল প্রশ্ন।