বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ঘুঁচতে পারে কাঙালের দশা! পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় মিলল বিরাট গুপ্তধন (Pakistan Oil Discovery)! জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের এই প্রদেশে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্লেষক মহলের দাবি, পাখতুনখোয়ার এই খনিজ সম্পদ পাকিস্তানের ডুবন্ত অর্থনীতিতে অক্সিজেন জোগাতে পারে। এদিকে এই অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কার ঘটনাকে দেশের জন্য বিরাট অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
ঘুরে দাঁড়াতে পারে পাকিস্তানের অর্থনীতি!
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাত জেলায় এই বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার পেয়েছেন পাকিস্তানের গবেষকরা। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান তেল ও গ্যাস উন্নয়ন সংস্থা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। ওজিডিসিএল জানিয়েছে, কোহাত জেলায় মাটির নিচে হাইড্রোকার্বনের একটি বিরাট মজুদ পাওয়া গিয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: আগামী ৬ মাসে আরও ৮টি, ২০২৬-এ কটি বন্দে ভারত স্লিপার চলবে? জানাল রেল
একাধিক পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পাকিস্তানের বিজ্ঞানীরা তেলের সন্ধানে মাটির নিচে অন্তত 5,170 মিটার গভীরে খনন কার্য চালিয়ে 187 মিটারের একটি বিশাল হাইড্রোকার্বন এলাকা খুঁজে পেয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই মজুদ থেকে প্রতিদিন 4,100 ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বের করা যেতে পারে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসও মিলবে এখান থেকেই। যা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
খাইবার প্রদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেলের আবিষ্কারের ঘটনাটিকে পাক প্রধানমন্ত্রী অভ্যন্তরীণ শক্তি আত্মনির্ভরতার দিকে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শরীফের বক্তব্য, পাকিস্তান সরকার 2026-27 আর্থিক বছরের জন্য শেল গ্যাস প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ শুরু করেছে, সেই মিশনের অধীনেই তেল কূপের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
অবশ্যই পড়ুন: নন্দীগ্রামে গেরুয়া ঝড়! সমবায় নির্বাচনে ৯ আসনেই জয়ী BJP, খাতাই খুলল না তৃণমূলের
তবে সবচেয়ে বড় বিষয়, এই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস শোধন, পরিবহন এবং বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পাকিস্তানি নেই। দারিদ্রতার স্বীকার এই দেশটিতে বহিরাগত শক্তি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলে তবেই ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল কাজে লাগানো যেতে পারে। কাজেই বলাই যায়, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ পেয়েও চরম দারিদ্রতা এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে তা সঠিক পদ্ধতিতে শোধন করে কাজে লাগানোটা পাকিস্তানের কাছে এক প্রকার আকাশের চাঁদ ধরার মতোই!