প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরেই রাজ্য জুড়ে চলছে SIR শুনানি। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন একের পর এক শুনানির নোটিস পৌঁছচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে, ঠিক সেই সময় ঘটল অবাক কাণ্ড। সকলকে চমকে দিয়ে SIR এর নোটিস পৌঁছল ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের (Dev) কাছে। শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মৌসুমী দাস।
SIR শুনানির নোটিস পেলেন দেব
উল্লেখ্য, দেবের আদি বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটালে। পরবর্তী সময়ে বাবার কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে গিয়ে থাকতে শুরু করেন দেব ও তাঁর পরিবার। অনেক পরে তিনি সপরিবারকে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটিতে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেছেন। রাজনীতিতে যোগদান করার পর দেব নির্বাচনের ভিত্তিতে নিজের জন্মস্থান ঘাটাল থেকে তিনবারের সাংসদ হয়েছেন। নিজের কেরিয়ারের পাশাপাশি জনতার কাজও সমানতালে করেচেন। এমতাবস্থায় SIR এর নোটিস মিলতেই শুরু হয় জোর গুঞ্জন। শাসকশিবিরের অভিযোগ, একজন ব্যস্ত অভিনেতা এবং একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা দেবকে এভাবে নোটিস পাঠানোর অর্থ নিতান্তই হেনস্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।
অনির্বাণ ভট্টাচার্যকেও পাঠানো হয়েছিল নোটিস
জানা গিয়েছে, SIR শুনানিতে উপস্থিত হয়ে দেবকে প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা পেশ করার নিদের্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তিনিও পশ্চিম মেদিনীপুরের আদি বাসিন্দা। পরে কর্মসূত্রে সপরিবারে চলে আসেন কলকাতায়। অনির্বাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপের সময়ে ২০০২ সালের কোনও নথি দেননি। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে আরও বহু নাগরিকের কাছেই আগামী দিনে এমন নোটিস পৌঁছতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন: ‘আবারও তৃণমূলকে জেতাতে মাঠে নামব’ শপথ বিহার থেকে আসা হিন্দিভাষীদের
প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে চলা SIR শুনানির ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুনানি কেন্দ্রের দূরত্ব। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত শুনানি কেন্দ্র বাড়ি থেকে ৩০–৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরে পড়ছে। ফলে অনেকের পক্ষেই কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। তাই এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার’ বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্রে শুনানি পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য বড় সুবিধা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।।