বাংলা পক্ষর প্রতিবাদের জের, রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’ থেকে বাদ বিপ্লবীদের অপমান করা সিন

Bangla Pokkho

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন বছরে বড়পর্দায় ‘হোক কলরব’ সিনেমা নিয়ে আসতে চলেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই বড়দিনে মুক্তি পেয়েছে তার টিজার। এ ছবি যে পুলিশ বনাম ছাত্র বিক্ষোভের গল্প তুলে ধরবে তার আভাস মিলেছে প্রথম ঝলকে। অনেকেই এই টিজার নিয়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। বহু বছর পর বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধরনের সিনেমা বড় আঁকা নিতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এমতাবস্থায় এই সিনেমা নিয়ে উঠলো সমান বিতর্ক। অভিযোগ বিপ্লবীদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে এই সিনেমায়। আর তাই নিয়ে গর্জে উঠলো বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho)।

বিতর্কে ‘হোক কলরব’!

উল্লেখ্য, ‘হোক কলরব’ শব্দবন্ধটি প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। জানা যায়, এক ছাত্রী একদল সহপাঠীর বিরুদ্ধে তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময়ে তাঁর অভিযোগের যথাযথ গুরুত্ব দেননি। যার জেরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ প্রতিবাদে মুখর হন। ক্রমে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য ছাড়িয়ে গোটা দেশে, হ্যাশট্যাগ ‘হোক কলরব’ নাম নিয়ে। ২০২৫-এ সেই শব্দবন্ধটিই শাসক দলের বিধায়ক প্রযোজক পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নতুন ছবির নাম দিয়ে নিয়ে এসেছে। আর এবার সেই সিনেমায় সংলাপ নিয়ে গর্জে উঠল বাংলা পক্ষ।

ধন্যবাদ পোস্ট বাংলা পক্ষের

বাংলা পক্ষের সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার, সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, রাজ চক্রবর্তীর হোক কলরব সিনেমার ট্রেলারে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে নাকি অপমান করা হয়েছে। যা প্রকাশ্যে আসা মাত্রই গর্জে উঠেছিল বাংলা পক্ষ। শেষে নাকি বাধ্য হয়ে ওই সিনটাই বাদ দিয়ে দেয় পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। আর সেই কারণে তাঁকে ধন্যবাদ জানায় বাংলা পক্ষ। পোস্টে তিনি জানান, “হোক কলরব ছবিটির ট্রেলারে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে অপমানের বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে গর্জে উঠেছিল বাঙালি জাতি। আজ রাজ চক্রবর্তী আমায় ফোন করে জানালেন যে ওই সিনটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। সদর্থক পদক্ষেপ। ধন্যবাদ জানাই। বাকিরা শিক্ষা নিন। এ বাঙালি আর সে বাঙালি নেই।”

আরও পড়ুন: শ্রীকৃষ্ণ ও পরমহংসদেবকে গুলিয়ে ফেললেন মমতা! ভিডিও পোস্ট করে খোঁচা শুভেন্দুর

প্রসঙ্গত, ‘হোক কলরব’ সিনেমা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরবও হয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। বীর শহিদ ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি সম্বন্ধে চূড়ান্ত ব্যাঙ্গাত্মক মনোভাব দেখানোয় তীব্র ধিক্কার জানানো হয়েছিল। তাঁর মতে এই অপমানে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেশের ও সমগ্র বাঙালি জাতির অপমান। সেই সময় পাল্টা দাবি তুলেছিল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি এটা নিয়েও রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলা পক্ষের কথায় বাধ্য হয়েই ওই অংশটি সিনেমা থেকে বাদ দিয়ে দিলেন রাজ।

Leave a Comment