বিশ্বরেকর্ড, ভারত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার iPhone রফতানি করল Apple

iPhone Export India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়ার উদ্যোগে এবার অ্যাপল ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল। ২০২৫ সালে ভারত থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়িন মার্কিন ডলার মূল্যের আইফোন রফতানি (iPhone Export India) করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় এই টেক সংস্থা, যা ভারতীয় মুদ্রায় দাঁড়াচ্ছে ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা। সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আর অ্যাপলের এই সাফল্য শুধুমাত্র তাদের জন্য নয়, বরং ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও রফতানি খাতের জন্যও যে বিরাট অর্জন তা বলার দাবি রাখে।

রিপোর্ট কী বলছে?

সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের আওতায় ভারত ধীরে ধীরে প্রডিউসর ইকোনোমিতে পরিণত হচ্ছে। ২০২৫ সালে অ্যাপল ভারত থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোবাইল ফোন রফতানি করেছে, যার ভারতীয় মুদ্রায় পরিমাণ ৪.৫১ লক্ষ কোটি টাকা। রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম নয় মাসে অ্যাপল ভারত থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আইফোন রফতানি করেছিল। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অ্যাপল ভারতের প্রোডাকশন লিংকড ইনসেন্টিভ স্কিমে যোগ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিয়ে করতে পারবে না কোনও অগ্নিবীর! নতুন নিয়ম ভারতীয় সেনার

সরকারের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের উৎপাদন এবং সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ভারতে ৩.৫ লক্ষের বেশি সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর বর্তমানে ভারতে মোট পাঁচটি আইফোনের কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি পরিচালনা করছে টাটা গ্রুপ এবং দুটি পরিচালনা করছে Foxconn। এদিকে প্রায় ৪৫টি সংস্থা এই আইফোন সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে DA মামলার শুনানি?

বলাই বাহুল্য, অ্যাপল ছাড়াও Samsung এর মতো বড় সংস্থাগুলি ভারতে উৎপাদন অনেকটাই বাড়িয়েছে। কারণ, রিপোর্ট অনুযায়ী, Samsung ২০২১ থেকে ২০২৫ এর মধ্যে প্রায় ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ডিভাইস রফতানি করেছে। আরে পিএলআই স্কিমের ফলে বিদেশী বিনিয়োগ তো বেড়েছেই, পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক্স খাতে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেয়েছে। অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১১ বছরে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬ গুণ। আর একই সময়ে ইলেকট্রনিক্স রফতানি বেড়েছে ৮ গুণ। এদিকে তিনি আরও জানিয়েছেন, দেশে বর্তমান ৪০টি কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং প্রকল্প চলছে, যা ল্যাপটপ এবং সার্ভার উৎপাদনকে আরও দ্রুত ত্বরান্বিত করছে। আর সবথেকে বড় খবর, চলতি বছরে চারটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে।

Leave a Comment