সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানে গিয়ে বিয়ে এবং ধর্মান্তর ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চর্চায় থাকা পাঞ্জাবের বাসিন্দা সরবজিৎ কৌরকে (Sarabjit Kaur) খুব শীঘ্রই ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে খবর। পাক সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই তার ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র মারফৎ খবর, আজই তাকে ভারতে পাঠানো হবে।
যৌথ অভিযানে গ্রেফতার সরবজিৎ
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ দল পাকিস্তানের নানকানা সাহিব জেলার পেহরে ওয়ালি গ্রাম থেকে সরবজিৎ কৌরকে আটক করেছে। আর সেই সময় তার পাকিস্তানি স্বামী নাসির হুসেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বলে রাখি, সরবজিৎ কৌর, যার বয়স ৪৮ বছর, তিনি পাঞ্জাবের কাপুরথলা জেলার আমানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর অমৃতসর থেকে আটারি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের চলে গিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শ্রী গুরুনানক দেবের জন্মবার্ষিকী। মোট ১৯৩২ জন শিখ তীর্থ যাত্রীদের সঙ্গে তিনি পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন। এই সূত্রে তার তীর্থ যাত্রার মেয়াদ ছিল ১০ দিন। এবার এই দলটি ১৩ নভেম্বর ভারতে ফিরে আসে। কিন্তু সরবজিৎ ফেরেনি। এরপর থেকেই ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ।
আরও পড়ুন: ২০ লক্ষ পড়ুয়াকে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করবে রাজ্য সরকার, কারা পাবে?
তবে সোশ্যাল মিডিয়া হঠাৎ করে ভাইরাল হওয়া উর্দু ভাষায় লেখা একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সরবজিৎ কৌর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নতুন নাম রাখা হয়েছে নূর হোসেন। এদিকে ওই তথ্য অনুযায়ী তিনি পাকিস্তানের শেখুপুরার বাসিন্দা নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন। এর পাশাপাশি ১৫ নভেম্বর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। আর সেখানে দেখা যায়, সরবজিৎ নিজেই একজন মৌলবির সামনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, নাসিরের সঙ্গে প্রায় নয় বছর আগে তার পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এমনকি তিনি আগেই বিবাহবিচ্ছিন্ন।
আরও পড়ুন: “ট্রাম্পের সব হুমকির জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই!” মোদিকে পরামর্শ মার্কিন গায়িকার
এদিকে এই ঘটনা পৌঁছে যায় লাহোর হাইকোর্ট পর্যন্ত। পাকিস্তানের শিখ সম্প্রদায়ের প্রাক্তন বিধায়ক মহিন্দর পাল সিং আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন, সরবজিৎ কৌরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক এবং ভারতের পাঠানো হোক। আর সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, তার পাকিস্তানে থাকার ভিসার মেয়াদ শেষ। তবুও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এতে জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি হতে পারে। তবে হ্যাঁ, তাকে গ্রেফতার এবং ভারতের পাঠানোর বিষয় চূড়ান্ত রায় এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি।