টিকিট বিক্রি ছাড়াও শতদ্রুর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল আরও ১০ কোটি, কোথা থেকে এল?

Satadru Dutta in jail custody new update

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুবভারতী কাণ্ডে এবার শতদ্রু দত্তের (Satadru Dutta) জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়ল। জানা গিয়েছে, টিকিট বিক্রি ছাড়াও লিওনেল মেসিকে ভারতে নিয়ে আসার নেপথ্য নায়ক শতদ্রুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে আরও 10 কোটি টাকা। সেই হিসেবে দেখে একেবারে চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের! আর তারপরই, ধৃত শতদ্রুকে তোলা হয় বিধাননগর মহকুমা আদালতে। সেখানে অবশ্য জামিনের আবেদন করেছিলেন বঙ্গ ক্রীড়া সংগঠক। তবে পুলিশের তরফে সেই আবেদনের বিরোধিতা করে নতুন অর্থের হিসেব দেখানো হলে শতদ্রু দত্তের জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেয় আদালত।

কোথা থেকে এল 10 কোটি?

মেসির ভারত সফরের শুরুটা হয়েছিল প্রাণের শহর কলকাতা থেকে। তবে শুরুটা ঝলমলে হলেও শেষটা ঢাকা পড়ে যায় অন্ধকারে। ফুটবলের মক্কায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। গ্যালারি থেকে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙা হয় চেয়ার, ছেড়া হয় ব্যানার। জনরোষের সামনে আস্ত থাকেনি গ্যালারির চারপাশের খাবারের স্টলগুলিও। উত্তাল জনতাকে ঠেকাতে আসে র‍্যাফ। সব মিলিয়ে একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল যুবভারতী। সেই ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রুকে।

অবশ্যই পড়ুন: সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা

সেই থেকে দীর্ঘ সময়, ক্রীড়া সংগঠককে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে একাধিক তথ্য, সামনে এসেছে বেশ কয়েকজনের নামও। সেইসব বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি ঠিক কী কারণে যুবভারতীতে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে বের করার চেষ্টায় তদন্তকারীরা। এরই মাঝে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার শতদ্রুকে বিধাননগর আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেই সাথে তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়, যুবভারতীর ঘটনার পর গোটা বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত একাধিক নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। নথিভুক্ত করা হয়েছে অনেকের বয়ান।

পুলিশের দাবি, গোটা ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে একটি নতুন তথ্য। জানা যায়, শতদ্রু দত্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল অতিরিক্ত 10 কোটি টাকা। এটি অবশ্য টিকিট বিক্রি থেকে আসেনি। তাহলে এলো কোথা থেকে? তদন্তকারীদের দাবি, ক্রীড়া সংগঠকের অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার পরই 10 কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এই অর্থের আসল উৎস কোথায় তা জানতে আপাতত উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে।

অবশ্যই পড়ুন: “যারা কোনও দিনও ব্যাটই ধরেননি….”, জয় শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ প্রাক্তন BCB প্রধানের

প্রসঙ্গত, আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন শতদ্রু। গতকাল বঙ্গ ক্রীড়া সংগঠকের আইনজীবী আদালতে খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল বিগত 27 দিন ধরে জেল হেফাজতে রয়েছেন। এই মুহূর্তে তদন্ত চলছে। এখন আর তাঁর জেল হেফাজতে থাকার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন তিনি। পরবর্তীতে আদালত যেমন ভাবে চাইবে সব রকম দিক থেকে তদন্তের স্বার্থে সহযোগিতা করবেন শতদ্রু। ধৃত নিজেও আদালতে জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে সব রকম সহযোগিতা করবেন তিনি। প্রয়োজনে আদালতে হাজিরাও দিতে আপত্তি নেই তাঁর। তবে শতদ্রুর জামিনের আবেদনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। পুলিশের বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত মেসিকে ভারতে নিয়ে আসা ক্রীড়া সংগঠকের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়ে 17 জানুয়ারি পর্যন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Leave a Comment