নিজে খেতে পাননা, অথচ গরিবদের ৫০০ কম্বল বিতরণ করলেন ভিখারি রাজু

beggar distribute blanket

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই কনকনে শীতে বড় মনের পরিচয় দিল এক গরীব ভিক্ষুক। নিজে এক বেলা খেলে অন্য বেলা কী খাবেন সেটার ঠিক থাকে না, অথচ এই শীতে যাতে গরীব মানুষের কষ্ট না হয় সেজন্য ৫০০টি কম্বল বিলি করলেন রাজু ভিখারি (Beggar Distribute Blanket)। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আজকের সময়ে মানুষ যখন নিজের স্বার্থ ছেড়ে কিছু ভাবতে চায় না, সেখানে একজন ভিখারি হয়ে রাজুর এই কাজ নিঃসন্দেহে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। আরও বিশদে আনতে ঝটপট পড়ে ফেলুন আর্টিকেলটি।

দুঃস্থদের মধ্যে ৫০০টি কম্বল বিলি করলেন ভিক্ষুক

পাঠানকোটের রাজু গরীব দুঃস্থদের মধ্যে ৫০০টি কম্বল বিতরণ করে মানবতার এক অনন্য নজির গড়েছেন। এই পদক্ষেপ ধনী ব্যক্তিদের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করে যারা দরিদ্রদের সাহায্য করতে লজ্জা পান। রাজু যিনি ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রায় ৫০০টি কম্বল দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার “মন কি বাত” অনুষ্ঠানে কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন তার সেবার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ সফরের সময় বাঁচবে এক ঘণ্টা! ৫৪৯ ট্রেনের গতি বাড়াল রেল

শুধু তাই নয়, কোভিড মহামারীর সময়, রাজু মানুষকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছিলেন, অভাবীদের বাড়িতে রেশন পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং শিশুদের বই এবং নোটবুক দিয়েছিলেন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজু একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং চলাফেরা করার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। রাজু, যিনি আগে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, এখন তিনি দরিদ্রদের মধ্যে উষ্ণ কম্বল বিতরণের জন্য একটি কেন্দ্র খুলেছেন।

চায়ের দোকান করেছেন রাজু

জানলে অবাক হবেন, নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এখন রাজু সমাজে একদম মাথা উঁচু করে বসবাস করছেন। তিনি একটি চায়ের দোকানও খুলেছেন। কম্বল বিতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, রাজু বলেন যে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে অনুদান দিয়ে এই ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, “সম্ভবত ঈশ্বর আমাকে প্রয়োজনে যে কাউকে সাহায্য করার দায়িত্ব দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমার নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই, আমার থাকার জন্য একটা জায়গা দরকার। আমি মানুষের সেবা করে যাব, আর ঈশ্বর আমার সাথে থাকুন। আমি বর্তমানে মাসে ৫,০০০ টাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকি।” উল্লেখ্য, ভিখারি রাজু প্রায় ৫০ জন দরিদ্র মেয়ের বিয়ে দিতেও একসময়ে সাহায্য করেছেন।

Leave a Comment