বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন দেশের মানুষজন। চরম আর্থিক এবং সামাজিক সংকট গ্রাস করেছে দেশটিকে। বিগত দিনগুলিতে দেশটিতে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং দৈনন্দিন জিনিসপত্রের গগনচুম্বি দামের কারণে খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ একেবারে প্রকাশ্যে। এসবের মাঝেই গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরান জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট। তবে সেসবের তোয়াক্কা না করেই তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আমজনতা। চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দুর্বল হয়েছে দেশটির মুদ্রা ইরানিয়ান রিয়ালও। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, ভারতের 100 টাকা সে দেশে কত (Indian Rupee Vs Iranian Rial)?
ভারতের 100 টাকা ইরানে কত?
আগেই জানানো হয়েছে, ইরানের ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি, অন্যান্য একাধিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির দুর্বল অর্থনীতির কারণে ইরানের মুদ্রা ইরানিয়ান রিয়ালের শক্তি ক্ষয় হয়েছে। যদিও ভারতীয় রুপি’র তুলনায় ইরানিয়ান রিয়াল অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। বর্তমানে দেশটির আর্থিক দৈন দশায় সেই দৈর্ঘ্য আরও বাড়ল। অনেকেই হয়তো জানেন না, ইরানের মুদ্রা অর্থাৎ ইরানি রিয়াল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। সেই তুলনায় অনেক শক্তিশালী ভারতীয় মুদ্রা রুপি।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তানের থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ! নজর রাখছে ভারতও
জানিয়ে রাখি, একজন ভারতীয় যদি ইরানে মাত্র 100 টাকা নিয়ে যান তবে সেখানে তিনি হাতে পাবেন লক্ষাধিক টাকা। হ্যাঁ, এই মুহূর্তে ইরানের মুদ্রার যা অবস্থা তাতে ভারতের এক টাকা সে দেশে 11,008.30 ইরানিয়ান রিয়ালের সমান। হিসেবটা 10 টাকায় হলে পরিমাণটা গিয়ে দাঁড়াবে 1,10,083.04 ইরানিয়ান রিয়ালে। তবে যদি কেউ ইরানে ভারতীয় 100 রুপি নিয়ে যান সে ক্ষেত্রে তিনি ও দেশে হাতে পাবেন একেবারে 11,00,830.42 ইরানিয়ান রিয়াল। তাহলেই বুঝুন ইরানের মুদ্রার তুলনায় ভারতের রুপি কতটা শক্তিশালী।
অবশ্যই পড়ুন: “মঙ্গলগ্রহে যেতে বললেও যাব!” BCB-র উপর ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই?
ঠিক কোন কোন কারণে ইরানের মুদ্রা এত দুর্বল হয়ে পড়ল?
ইরানে বছরের পর বছর ধরে চরম মুদ্রাস্ফীতি, দেশটির দুর্বল অর্থনীতি ইরানিয়ান রিয়ালের দুর্বল হওয়ার নেপথ্যে বড় কারণ। তবে যে বিষয়টি একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না তা হল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। ইরানের মুদ্রার চরম দুর্বলতার প্রধান কারণ এটি। আসলে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে এই দেশটির উপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন। এছাড়াও গত এক দশকে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। সেই সাথে আমদানি এবং রপ্তানিতে খারাপ প্রভাব পড়েছে। এর সাথে উপরি পাওনা হিসেবে খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে, একপ্রকার হামাগুড়ি দিচ্ছে ইরানের অর্থনীতি। আর কোনও দেশের অর্থনীতি যদি ধাক্কা খায় তবে সেই দেশের মুদ্রাও দুর্বল হবে এটাই স্বাভাবিক। অনেকেই বলছেন, ইরানের পরিস্থিতি ক্রমশ দেউলিয়া হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।