সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হাওয়া গরম আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির নিরিখে এবার সরব হল ডেনমার্ক। দেশের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাংসদ সদস্য রাসমুস জারলোভ স্পষ্ট বললেন, এই ইস্যুতে ভারতের মতো বড় গণতান্ত্রিক দেশের সমর্থন ডেনমার্কের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ (Denmark on India)।
এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জারলোভ বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে ভারতের থেকে অনেক দূরে হলেও এখানে এমন কিছু নীতি জড়িত রয়েছে যা গোটা বিশ্বের জন্যই কার্যত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, কোনও বিদেশী শক্তি যদি অন্য দেশের একটি অঞ্চল জোর করে দখল নিতে চায় তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণ করা যায় না। আর এই ঘটনা যদি ভারতের কোনও অঞ্চলে করত, তাহলে ভারতও ক্ষুব্ধ হতো।
দখলদারী রাজনীতির জেরে অস্থির গোটা বিশ্ব
ডেনমার্কের সাংসদের আশঙ্কা, যদি শক্তিশালী দেশগুলি ইচ্ছামতো অন্য দেশের অঞ্চল দখল করার চেষ্টা করে, তাহলে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়বে। তিনি বলেছেন, যে অঞ্চলের উপর কোনও ঐতিহাসিক অধিকার নেই বা কোনও চুক্তি নেই, সেখানে সামরিক শক্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে দখল নেওয়া যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে বিশ্ব খুবই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।
আরও পড়ুন: রাম মন্দিরের ১৫ কিমির মধ্যে নিষিদ্ধ আমিষ ও মদ, নির্দেশিকা অযোধ্যা প্রশাসনের
তবে বলার বিষয়, ট্রাম্প আগেও ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর তখন ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, গ্রিনল্যান্ড কোনও বিক্রির পণ্য নয়। কিন্তু সম্প্রতি ফের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ তুলেছেন ট্রাম্প, যা নিয়ে আবারও ইউরোপে দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। যেহেতু গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, বিশেষ করে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম এবং লোহার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই অঞ্চল, তাই ট্রাম্পের নজর যে সেখানে পড়বে তা আগে থেকেই আঁচ করা গিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করছে, রাশিয়া ও চিনের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর বক্তব্যও খারিজ করে দিয়েছেন জারলোভ। তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডে চিনের কোনও কূটনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি নেই। এমনকি কোনও চিনা খনন সংস্থা সেখানে কাজ করে না। আর সেখানে চিনের কোনও কনসুলেটও নেই। ব্যঙ্গ করে তিনি এও বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে একটা চিনা রেস্তোরাঁ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। এতটাই কম সেখানে চিনের উপস্থিতি।
আরও পড়ুন: “মঙ্গলগ্রহে যেতে বললেও যাব!” BCB-র উপর ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই?
তবে সবশেষে ডেনমার্কের শীর্ষ নেতা জারলোভ আশাবাদী কন্ঠে বলেছেন, ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকে। আর সেই সূত্রে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ভারত ডেনমার্কের পাশে দাঁড়াবে তা আশা করা যায়। এটাই তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।