প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্পেশ্যাল এডুকেটর বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে রাজ্যের (West Bengal) বেশ কয়েকটি জায়গায় স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। যা জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের অধীনে রয়েছে। কিন্তু এবার সেই স্কুলগুলি অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। বিগত ৫ মাস ধরে আটকে রয়েছে বরাদ্দ টাকা। যার দরুন মাথায় হাত শিক্ষকসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের।
পাঁচ মাস ধরে আটকে টাকা!
জানা গিয়েছে, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের অন্তর্গত বিগত ৫ মাস ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের হস্টেলের থাকা-খাওয়ার খরচ মিলছে না। রাজ্য জুড়ে এই ধরনের বিশেষ স্কুল রয়েছে ৭৪টি। সেখানে মোট ৯৩৭০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল গ্রামাঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য এই স্কুলগুলিই অন্যতম প্রধান ভরসা। কিন্তু এই পড়ুয়াদের নিয়ে স্কুল চালানো রীতিমত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের বিশেষ স্কুলগুলিতে পড়ুয়াপিছু মাসে ১৬০০ টাকা দেওয়া হয় দফতর থেকে। কিন্তু গত পাঁচ মাস ধরে ওই পড়ুয়াদের হস্টেলে থাকার খরচ না মেলায় হস্টেল চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে।
বরাদ্দ টাকা দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন স্কুলগুলোর
স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা এই নিয়ে কয়েক বার জনশিক্ষা দফতরে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বরাদ্দ টাকা পাঠানোর জন্য। কিন্তু এখনও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই বিশেষ স্কুলের শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, কিছু স্কুলে কেবল চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বাকি স্কুলগুলিতে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। এবং পড়ুয়াদের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অনুমোদিত পাঠ্যক্রমই পড়ানো হয়। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ অজয় দাস জানান, “আমাদের হস্টেলে ৮০ জন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু টাকা গত পাঁচ মাস ধরে না পাওয়ায় হস্টেল চালানোই সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন দোকানে ধার-দেনা করে চালাতে হচ্ছে। কিন্তু এই ভাবে কত দিন চলতে পারে?’’
আরও পড়ুন: রাম মন্দিরের ১৫ কিমির মধ্যে নিষিদ্ধ আমিষ ও মদ, নির্দেশিকা অযোধ্যা প্রশাসনের
স্কুলের বরাদ্দ টাকা পাঠানো নিয়ে জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই বকেয়া মেটানো হবে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্য জুড়েই এই ধরনের স্কুলগুলির হস্টেলে পড়ুয়াদের টাকা বকেয়া রয়েছে। আমরা অর্থ দফতরে জানিয়েছি বিষয়টি, তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, খুব দ্রুত তারা এই বকেয়া টাকা ছেড়ে দেবে।’’