সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিবাহ এমনিতেই পবিত্র সম্পর্ক। তবে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ এখন সাধারণ মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্যাঁ, বিশ্বের কোনও কোনও প্রান্তে এখন ডিভোর্সের হার দিনের পর দিন বাড়ছে, আবার কোথাও চোখে পড়ার মতো কমছে। তবে সবথেকে আশ্চর্যের বিষয়, এই পরিবর্তনের পিছনে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া বা আর্থিক চাপ নয়, বরং দাম্পত্য জীবনের সমস্যা থেকে শুরু করে জীবনধারা, আইন সহ একাধিক সমস্যা কাজ করছে।
সাধারণভাবে উন্নত বা ধনী দেশগুলিতে দাম্পত্য জীবন বেশি স্থিতিশীল বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বহু দেশে ডিভোর্সের হার (Divorce Rate) ৫০ শতাংশের থেকেও বেশি। তবে আবার কিছু উন্নয়নশীল দেশে এই হার অনেকটাই কম। আর এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে দেরিতে বিয়ে, সহজ ডিভোর্সের আইন, সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব।
আরও পড়ুন: নতুন বছরেই দারুণ চমক, BRICS-র চেয়ারম্যানশিপ পেল ভারত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিভোর্সের হার
সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে ওয়ার্ল্ড ইনসাইটের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভারতেই সবথেকে ডিভোর্সের হার কম। হ্যাঁ, মাত্র ২ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে ভারতে। আর বাকি দেশগুলোর তালিকা রয়েছে নিম্নরূপ—
- ভারতে ২ শতাংশ
- ভিয়েতনামে ৮ শতাংশ
- তাজিকিস্তানে ১১ শতাংশ
- ইরানে ১৫ শতাংশ
- মেক্সিকোতে ১৮ শতাংশ
- ইজিপ্টে ১৮ শতাংশ
- ব্রাজিলে ২২ শতাংশ
- তুরস্কে ২৬ শতাংশ
- কলম্বিয়াতে ৩১ শতাংশ
- পোল্যান্ডে ৩২ শতাংশ
- জাপানে ৩৬ শতাংশ
- জার্মানিতে ৩৭ শতাংশ
- ব্রিটেনে ৪২ শতাংশ
- নিউজিল্যান্ডে ৪২ শতাংশ
- অস্ট্রেলিয়ায় ৪৪ শতাংশ
- চিনে ৪৫ শতাংশ
- যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ শতাংশ
- দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৭ শতাংশ
- ডেনমার্কে ৪৭ শতাংশ
- ইটালিতে ৪৭ শতাংশ
- কানাডায় ৪৮ শতাংশ
- নেদারল্যান্ডে ৪৯ শতাংশ
- সুইডেনে ৫১ শতাংশ
- ফ্রান্সে ৫২ শতাংশ
- ফিনল্যান্ডে ৫৬ শতাংশ
- কিউবাতে ৫৬ শতাংশ
- ইউক্রেনে ৬৫ শতাংশ
- রাশিয়াতে ৭৪ শতাংশ
- লুক্সেমবার্গে ৮০ শতাংশ
- স্পেনে ৮৪ শতাংশ
- পর্তুগালে ৯০ শতাংশ
আরও পড়ুন: রাজ্যপালকে বোম মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, গ্রেফতার এক বৃদ্ধ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিভোর্স বাড়া বা কমার পেছনে বেশ কয়েকটি বড় বড় কারণও কাজ করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা। বিশেষ করে বর্তমানে নারীরা স্বনির্ভর হচ্ছে। সেই কারণে ডিভোর্সের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এছাড়া সহজ ও দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং দেরিতে বিয়ে বা কম সন্তান নেওয়ার প্রবণতা ডিভোর্সের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।