সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ (Budget 2026)। বাজেটে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোন জিনিসের দাম কত কমবে বা বাড়বে, সেটা জানার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন আমজনতা। যদিও এরই মাঝে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে হাইভোল্টেজ বৈঠক সারলেন বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যসচিবরা। সেই বৈঠকে ছিলেন বাংলার স্বাধীন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। বৈঠকে তিনি যা দাবি করলেন তা শুনে চমকে গিয়েছেন সকলে।
কেন্দ্রের কাছে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা চাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
এমনিতে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক হয়ে রয়েছে। কবে পারস্পরিক এই দ্বন্দ্ব মিটবে? উত্তর জানা নেই কারোর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করার অভিযোগ তুলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে সেই প্রসঙ্গই উঠল বাজেট নিয়ে বৈঠকে। বাংলার সঙ্গে সৎ সন্তানের মতো যেন আচরণ না করা হয়, নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসে এই দাবিই জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিজেই সেই কথা স্বীকার করেছেন চন্দ্রিমা।
আসলে গত শনিবার নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন নির্মলা। উপস্থিত ছিলেন তাঁর মন্ত্রকের কর্তারাও। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গে অর্থ দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীকে বলেছি রাজ্যকে যেন সৎ সন্তানের মতো দেখা না হয়। কেন্দ্রের কাছে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজ্যের। সেই টাকা দিতে অনুরোধ জানিয়েছি।’ কোন কোন খাতে মোদী সরকারের থেকে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা বকেয়া রয়েছে, তার তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বিভিন্ন পণ্যে জিএসটি-র হার কমানোর ফলে রাজ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, ফের তা পূরণের দাবি তুলেছেন।
বিভিন্ন দাবি অন্যান্য রাজ্যের
এ দিনের বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের তরফে নানা দাবি করা হয়েছে। যেমন পরিকাঠামো, কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে হরিয়ানা। বিশেষ আর্থিক প্রকল্প চেয়েছে পঞ্জাব, তেলঙ্গানা। কর্ণাটকের দাবি, জিএসটি-র হার কমানো-সহ নানা কারণে রাজ্যের আর্থিক হাল খারাপ হচ্ছে, সে দিকে নজর দিক মোদী সরকার। চন্দ্রিমার দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গের সরকার সব সময়েই মানুষের পাশে থাকে। কিন্তু জিএসটি কমায় রাজ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, বাজেটে তা পূরণের ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে সেস-সারচার্জ খাতে কেন্দ্রের আয় রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
আরও পড়ুনঃ কর্মী, পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর! ৬০% প্রায় নিশ্চিত, জানুয়ারি থেকে কতটা বাড়তে পারে DA?
চন্দ্রিমা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে আশা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা স্থির। তা পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি। গঙ্গা-পদ্মা ক্ষয় রোধের জন্য টাকা দিতেও অনুরোধ করেছেন। তাঁর কথায়, “নির্মলা সব মন দিয়ে শুনে লিখে নিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, দাবিগুলি খতিয়ে দেখা হবে।”