প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নরমাংস খাওয়ার বিকৃত আকাঙ্ক্ষা মেটাতেই এক ভবঘুরে ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগ স্থানীয় এক যুবকের! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কোচবিহারের (Cooch Behar) দিনহাটার কুর্শাহাট এলাকার। ঘটনার তদন্তে নেমে স্থানীয়দের সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি শুনে হতবাক তদন্তকারীরাও। বেরিয়ে এল একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি, শনিবার, কোচবিহারের দিনহাটার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা কুড়শা হাটের একটি প্রত্যন্ত শ্মশান থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই মৃতদেহের গলায় আর কাঁধে ছিল গভীর ক্ষতচিহ্ন। তখনই পুলিশ এটিকে ‘বিরলতম অপরাধ’ বলে দাবি করে খুনের মামলা রুজু করে এবং তদন্তে নামে। আর সেই তদন্তের ভিত্তিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় ৩৪ বছরের এক অভিযুক্ত ফিরদৌস আলমকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য।
আরও পড়ুনঃ সোনা, রুপোর দামে বড় পরিবর্তন! কমল না বাড়ল? আজকের রেট
মৃতদেহের মাংস খাওয়াই ছিল আসল উদ্দেশ্য!
দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক ফিরদৌস আলমকে রবিবার দুপুরে পুন্ডিবাড়ি থানা এলাকার চকচকায় একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন সে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই ব্যক্তিকে খুন করার পর ওই মৃতদেহ নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে ফিরদৌস। এরপর কলের জল দিয়ে ভালো করে দেহ পরিষ্কার করে। অভিযুক্তের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, আর সেটি হল সেই মৃতদেহের মাংস খাওয়ার। যেহেতু সেই অজ্ঞাত পরিচিত ব্যক্তি শ্মশানে থাকতেন, সেই কারণে অভিযুক্তের সহজ টার্গেট ছিলেন তিনি। ফিরদৌস সব সময়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। কিছু উল্টোপাল্টা কথাবার্তাও বলছে।
আরও পড়ুন: টানেলে আটকাল ট্রেন, বন্ধ বিদ্যুৎ সরবরাহ! সাতসকালে মেট্রোতে বড়সড় বিভ্রাট
ধীমান মিত্র জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ক্যানিবালিজমের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গিয়েছে। যা খুবই বিরল একটি অপরাধ। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তকে চারদিনের হেফাজতে নিয়েছে। তবে দিনহাটার মতো এই জনবহুল এলাকায় শুধুমাত্র মাংস খাওয়ার জন্যই এই খুন কিনা, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে। সন্ধ্যার পর বহু মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হচ্ছে।