পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত দুই, জানুন নিপা ভাইরাসের উপসর্গ ও প্রতিকার

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এবার নতুন আতঙ্ক ‘নিপা ভাইরাস’ (Nipah Virus)। জানুয়ারি মাসে রাজ্যে দেখা গেল এই ভাইরাসের সংক্রমণ। জানা যাচ্ছে, এইমস কল্যাণীর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষার সময় এই সন্দেহজনক কেসগুলি ধরা পড়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে একটি ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম রাজ্য পাঠানো হচ্ছে। তবে আপাতত আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিপা ভাইরাসের ইতিহাস

জানিয়ে রাখি, প্রথমবার ১৯৮৯ সালে মালয়েশিয়াতে এই নিপা ভাইরাস চিহ্নিত হয়। সেই সময় শূকরের পালকের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং যার জেরে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই একে মারাত্মক ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতে এই ভাইরাসের ঘটনা কম হলেও প্রভাব ছিল মারাত্মক। জানা যাচ্ছে, ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি ২০১৮ সালে কেরালায় মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং সেখানে একাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে কেরালায় আরও কিছু কেস ধরা পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কী এই নিপা ভাইরাস এবং কীভাবে ছড়ায়?

নিপা ভাইরাস হল একটি জেনেটিক ভাইরাস। অর্থাৎ, এটি প্রাণী থেকেই মানুষের শরীরের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ বাদুড়ই এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। আর বাদুড় নিজেরা অসুস্থ না হলেও তাদের মাধ্যমে ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাদুড়ে খাওয়া বা দূষিত ফল খেলে, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে, আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি আসলে এই ভাইরাস সংক্রমন ঘটতে পারে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ বা টিকা বের হয়নি। ফলে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ সোনা, রুপোর দামে বড় পরিবর্তন! কমল না বাড়ল? আজকের রেট

নিপা ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ

শুরুতে নিপা ভাইরাসের উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ জ্বরের মতোই হয়ে থাকে। হ্যাঁ, জ্বর, মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এই সমস্ত দেখা যায়। তবে পরিস্থিতি যখন খারাপের দিকে এগোয়, তখন মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি বা অচেতন, শ্বাসকষ্ট, মাথায় ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। আর গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই খারাপ হয়। এমনকি অনেক সময় বেঁচে থাকলেও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় হাড় কাঁপানো শীত, পারদ নামবে ৬-এ! আজকের আবহাওয়া

নিপা ভাইরাসের প্রতিকার

স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু সতর্কতা মেনে চললে এই ভাইরাস থেকে এড়ানো যেতে পারে। যেমন—

  • বাদুড়ে খাওয়া হতে পারে এমন ফল এড়িয়ে চলুন।
  • কাঁচা খেজুরের রস মোটেও পান করবেন না।
  • ভালোভাবে ধুয়ে তারপরে ফল খান।
  • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির খুব কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • সম্ভাব্য সংস্পর্শের পর জ্বর বা উপসর্গ দেখা দিলে খুব দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Leave a Comment