প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গৃহস্থের বাড়িতে এবার চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়ল শাসকদলের নেতা (TMC Leader Arrested)! তবে শুধু চুরি নয়, পেটপুরে খাবার খেয়ে ঘরে মলত্যাগ করে পালান তাঁরা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। সোমবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় জোর সমালোচনা! গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। অস্বস্তিতে পরে তৃণমূল। খোঁচা দিতে ছাড়লেন না বিরোধীদের।
প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি শাসকদলের নেতার
রিপোর্ট মোতাবেক, গত শনিবার, পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডাকঘর বিভাগের কর্মী রানা বিশ্বাসের বাড়িতে চুরি করেছিল কয়েকজন দুষ্কৃতি। নগদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা, দু’ভরি সোনার গয়না, কম্বল, কাপড় সহ বেশকিছু দামি জিনিসপত্র লুটপাট চালায়। তবে শুধু চুরি নয়, দুষ্কৃতীরা ফ্রিজে রাখা মাংসের ঝোল, মাছ ভাজা, ভাত ও মিষ্টি পেটপুরে খেয়ে ডাইনিং রুমে মলত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের কাছে খবর দেওয়া হলে রবিবার এই চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে পাকড়াও করে। কিন্তু অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি, খেয়ে মলত্যাগ! গুসকরায় পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
উদ্ধার বেশ কিছু চুরির সরঞ্জাম
পুলিশ সূত্রে খবর, রানা বিশ্বাসের বাড়ির চুরির ঘটনায় গ্রেফতার করা হল গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি হাই মল্লিক এবং আহাদ শেখ। ধৃত দু’জনেই গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁদের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি করার বেশকিছু সরঞ্জাম। পুলিশ জানিয়েছে, রানা এবং তাঁর স্ত্রী দিনকয়েক আগে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। রানার মা-ও তাঁর বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর এই ফাঁকা বাড়িকেই তখন টার্গেট করেছিল শাসকদলের নেতা। জানা গেছে, চুরির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা হাই মল্লিক পেশায় ছুতোর। গুসকরা শহরের আলুটিয়াতে তার নিজস্ব একটি ফার্নিচার তৈরির দোকান রয়েছে। এদিকে এই চুরির ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল।
আরও পড়ুন: নরমাংস খাওয়ার লোভে কুপিয়ে খুন! গ্রেপ্তার কোচবিহারের দিনহাটার এক নরখাদক
গুসকরা টাউন তৃণমূল সভাপতি মল্লিকা চোঙদার জানিয়েছেন যে, হাই মল্লিক দলের কোনও পদে ছিলেন না। তাঁর দাবি, ‘‘এখনও আমাদের নতুন করে ওয়ার্ড কমিটি তৈরি হয়নি। সুতরাং হাই মল্লিক এখন দলের কোনও পদে নেই।’’ তবে গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাই মল্লিক নেশা করত বলে শুনেছি। কিন্তু ও যে এ সবের মধ্যেও আছে জানা ছিল না। যাই হোক, আইন আইনের পথে চলবে।’’ এই ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দল। বিজেপি নেতা মৃত্যঞ্জয় চন্দ্র জানান, ‘‘দিনে দিনে তৃণমূলের নেতাদের চরিত্র সামনে আসছে। চোর-ডাকাতরাই তো এখন শাসকদলের সম্পদ।’’