প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন বছরে ফের আসানসোলের (Asansol) কুলটি সংলগ্ন কয়লা খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অভিযোগ পরিত্যক্ত কয়লা খনি থেকে অবৈধ কয়লা তোলার সময় খনিতে ধস নেমে একাধিক শ্রমিক আটকে পড়েছে। অন্তত ছয় জন চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চারজনকে বের করে আনা সম্ভব হলেও বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শেষ আপডেট অনুযায়ী একজন মহিলা সহ দুজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।
ফের কুলটির কয়লা খনিতে ধস!
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে আসানসোলের সালানপুর সংলগ্ন কুলটি এলাকার বড়িরা সাইডে পরিত্যক্ত কয়লা খনি থেকে কয়লা সংগ্রহ করতে গিয়ে ৬ জন শ্রমিক চাপা পড়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বড়িরা রোড থেকে এই খনিগর্ভ প্রায় আড়াইশো ফুট নিচে অবস্থিত। কোনরকমে চারজনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুজনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে ধসের এলাকা অত্যন্ত গভীর হওয়ায় পোকলেন যন্ত্র নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বিসিসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে কুলটি থানার পুলিশ এবং CISF।
আরও পড়ুনঃ বৃদ্ধ বাবা-মাকে উপেক্ষা করলে ১০% বেতন কাটা হবে কর্মীদের, নয়া নিয়ম রাজ্য সরকারের
কী বলছেন কুলটি ব্লকের যুব সভাপতি?
ঘটনা প্রসঙ্গে কুলটি ব্লকের তৃণমূল ব্লক প্রাক্তন যুব সভাপতি শুভাশিস মুখার্জি বলেছেন তারা বিসিসিএল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধার কাজ দ্রুত করার আবেদন জানিয়েছেন। তবে ঠিক কত জন খনির নিচে চাপা পড়েছেন সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। এই এলাকায় কয়লা চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লাখনির অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ খনন ও চুরির সিন্ডিকেট চলছে। কখনো পুরনো পরিত্যক্ত খাদানে, কখনো বৈধ খনির পাশে গর্ত খুঁড়ে কয়লা তোলেন। যার ফলে যেকোনো সময় ধস নামে।
আরও পড়ুন: ১০ মিনিটে ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধ করল সরকার, বড় পদক্ষেপ Blinkit-র
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে কয়লা খনি ধসের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে নারায়ণকুড়ি খনিতে ধসের কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালেও একাধিকবার অবৈধ খননে মৃত্যুর খবর এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “সিআইএসএফ আছে, পুলিশ আছে, তবু রাত হলেই লোক নেমে পড়ে কয়লা চুরি করতে।”