ঘরোয়া জেলায় রাখা যাবে না পুলিশকে, ভোটের আগে নবান্নে চিঠি কমিশনের

West Bengal Police election commission

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রাজ্যের পুলিশ (West Bengal Police) প্রশাসনে বিরাট রদবদলের প্রস্তুতি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

পুরনো নির্দেশিকা মেনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ

সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩ এর নির্দেশিকা অনুসরণ করেই দ্রুত বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন মনে করছে, যারা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনও পুলিশ আধিকারিককে নিজের ঘরোয়া জেলা বা দীর্ঘদিন কর্মরত এলাকায় থাকতে দেওয়া যাবে না।

এদিকে বিধানসভা ভোটের সময়সূচি মাথায় রেখে কমিশন আগামী ৩১ মে, ২০২৬ কেই বেস ডেট হিসেবে ধরতে বলেছে। আর সবথেকে উল্লেখ করার বিষয়, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। অর্থাৎ, তার আগেই সমস্ত বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

কারা পড়বে বদলির আওতায়?

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক নিজের জেলায় কর্মরত অথবা গত চার বছরের মধ্যে কোনও একটি জেলায় টানা তিন বছর ধরে কর্মরত ছিলেন, তাদেরকেই সেই জেলা থেকে সরাতে হবে। এমনকি সেই ক্ষেত্রে পদোন্নতির পর একই জেলায় কাজের সময় গণ্য করা হবে। আর এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা বা তার ঊর্ধ্বতন সমস্ত পুলিশ আধিকারিকের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে যারা জেলা বা মহকুমা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাহিনীর দায়িত্বে থাকবে, তারা সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবে।

ছাড় পাবে কারা?

এদিকে কমিশনের নির্দেশিকায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। যেমন কম্পিউটারাইজেশন শাখা, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, প্রশিক্ষণ বিভাগের কর্মরত আধিকারিকরা এই নিয়মের আওতায় ছাড় পাবে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বলেছে, যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে আগে নির্বাচন সংক্রান্ত গাফিলতিতে কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বিচারাধীন, তাদের কোনও ভাবেই নির্বাচনের দায়িত্ব রাখা হবে না। এছাড়াও যাদের অবসরে যেতে ছয় মাসের কম সময় বাকি, তাদেরকেও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment