India Hood Decode: বরফের নীচে লুকোনো ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার! আমেরিকার নেক্সট টার্গেট এই ৪ দেশ

America
America

ভেনেজুয়েলা দখল করেই থামবে না আমেরিকা (America), এবার টার্গেট – গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, ইরান, কিউবার মতো বেশ কয়েকটি দেশ। শুধু তাই নয়, আমেরিকার টার্গেটে রয়েছে ভারতও।

কিন্তু, আপনি যদি ভাবেন এই বিরাট কাজের মাস্টারমাইন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাহলে বিরাট বড় ভুল করবেন। কারণ, গত ১৫০ বছর ধরে, কখনও ছলে, কখনও বা বলে এই একই ধরনের কাজ করে আসছে আমেরিকা।

কিন্তু, এখন প্রশ্ন হচ্ছে – কেন এমনটা করে আমেরিকা? যদি ট্রাম্প মাস্টারমাইন্ড না হয়, তাহলে কার অঙ্গুলিহেলনে হচ্ছে এই সমস্ত কাজ? ভেনেজুয়েলার পর কেন এবার আমেরিকার নজর গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, ইরান, কিউবার মতো দেশের দিকে? আর ভিডিওর সবশেষে আমরা জানাবো – কেন ভারতকেও টার্গেট করছে ট্রাম্প?

আজ India Hood ডিকোডে আমরা তুলবে ধরবো আন্তর্জাতিক এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। আর আপনি যদি এখনও আমাদের চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব না করে থাকেন তাহলে ঝটপট ক্লিক করে ফেলুন সাবস্ক্রাইব বাটনে।

প্রথমেই আপনাদের জানতে হবে, কারা করছে এই কাজ?

মার্কিন গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা বিভাগ CIA এবং FBI দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজ করে আসছে আমেরিকার জন্য। কিছু কিছু অপারেশনের কোনও প্রমাণ না থাকলেও, কিছু কিছু অপারেশনের ডকুমেন্টেড কপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ডাউন্স তাঁর ‘ক্যাটাস্ট্রফিক সাকসেস: হোয়াই ফরেন-ইমপোজড রেজিম চেঞ্জ গোজ রং’ বইয়ে লিখেছেন, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১২০ বার বিদেশি হস্তক্ষেপে সরকার পতন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশ সরকার ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিভিন্ন দেশে এই সমস্ত অপারেশনকে কখনও নাম দেওয়া হয়েছে মিলিটারি কুপ অপারেশন, কখনও বা ডিপ স্টেট, আবার কখনও বা রেজিমি চেঞ্জ অপারেশন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অপারেশনের নাম দিয়েছে – মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন 

এবার আপনাদের বুঝতে হবে, কেন বহুকাল ধরে এমন কাজ করে আসছে আমেরিকা?

আমেরিকার কাছে যখন প্রথমে কিছুই ছিল না, তখন আমেরিকার মূল সম্পদ ছিল তার উর্বর জমি। খনিজ পদার্থ আর তেলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে তারা। ধীরে ধীরে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে তারা।

এবার আসা যাক মূল বিষয়ে। আমেরিকা কেন এমনটা করে আসছে? আপনাকে বুঝতে হবে – আমেরিকার মনোভাব সবসময়েই ব্যবসায়িক। তাই তারা তেলের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করার পর থেকেই, সেই সমস্ত দেশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে যেখানে তেল রয়েছে। পাশাপাশি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশেও বরাবর নিজেদের আধিপত্য জমিয়ে এসেছে আমেরিকা। গরীব দেশে আর্থিক সাহায্য করে খুলেছে, নিজেদের একের পর এক কোম্পানি।

কিন্তু, সময়ের সাথে সাথে কিছু দেশ যেমন আমেরিকার বশ্যতা মেনে নেয়, সেখানেই কিছু দেশ অমান্য করা শুরু করে আমেরিকাকে। অনেক দেশ বামপন্থা মনোভাবে প্রভাবিত হয়ে, দেশের সম্পদকে দেশের জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়। কিছু দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থাৎ আজকের রাশিয়ার প্রতি ঝোঁকে। কিছু দেশ আমেরিকার মতো নিজেদের কারেন্সিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হয়।

কিন্তু, এগুলোতে ভুল তো কিছুই নেই। আমেরিকা যেমন নিজেদের মহান বানাতে চায়, যে কোনও দেশই সেটা চাইবে। কারণ স্বাধীনতা পাওয়ার পরেও যদি কোনও দেশকে অন্যের গোলামি করতে হয় তাহলে স্বাধীনতার আসল মানেটা কী?

কিন্তু, আমেরিকার আসল সমস্যা এখানেই। কারণ তাদের উদ্দেশ্য মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন নয়, বরং অনলি আমেরিকা ইস গ্রেট

আর যে যে দেশের সরকার, আমেরিকার এই ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং ইগোর পরিপন্থী হয়নি তাদের বিরুদ্ধেই চালিয়েছে আক্রমণ। যে যে দেশের ফলে আমেরিকার মনে হয়েছে ডলারের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে তাদের ওপর চালিয়েছে হামলা। শুধুমাত্র বামপন্থী মনোভাব যাতে কোনও দেশে আধিপত্য বিস্তার না করটে পারে, কমিউনিজমের বিস্তার যাতে না হয়, রাশিয়ার প্রভাব যাতে রোখা যায় – সেই কারণেই প্রায় এক ডজন দেশের সরকার ফেলেছে আমেরিকা। যার মধ্যে রয়েছে প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল সহ একাধিক দেশ।

কেবল কমিউনিজম ও রাশিয়ার প্রভাব আটকানো নয়, বিভিন্ন দেশের খনিজ সম্পদ দখল করে মার্কিন কোম্পানিগুলিকে লাভবান করাও ছিল CIA-র অন্যতম উদ্দেশ্য।

জানলে অবাক হবেন, ১৮৯৩ সালে হাওয়াই (Hawaii) দেশের চিনির নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে এই আন্দাজ করে সেই দেশকে নিজেদের অধীনে এনেছিল আমেরিকা। সেই স্বাধীন দেশ আজ আমেরিকার একটি রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

১৯৫৩ সালে ইরানের তেল কোম্পানিতে নিজেদের প্রভাব যাতে অটুট থাকে, সেই দেশের সরকার যাতে তাদের নিজেদের সম্পদ জাতীয়করণ করতে না পারে, সেই জন্য অপারেশন অ্যাজাক্স চালিয়ে ফেলে দেওয়া হয় সেই দেশের সরকার।

১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালার সরকার নিজেদের দেশের জমি বাঁচাতে উদ্যোগী হয়। ফলত, মার খেত আমেরিকার ফল কোম্পানি। ব্যাস, অপারেশন PBSuccess চালিয়ে সেই দেশের সরকার ফেলে নিজেদের পছন্দের সরকার গঠন করে আমেরিকা।

১৯৬২ সালে পেরুর তামা, তেল ও খনিজ খাতে মার্কিন কোম্পানির আধিপত্য কায়েম রাখার জন্য সরকার ফেলে দিয়ে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায় আমেরিকা। এরপর ১৯৬৮ সালে ফের ওই দেশের সরকারকে ফেলে দেয় আমেরিকা। কারণ সেই দেশের নতুন সরকারও তেল ও জমিকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিল।

১৯৮৯ সালে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ পানামা ক্যানালের ওপর অধিকার রাখার জন্য পানামার ওপর চালানো হয় অপারেশন জাস্ট কজসেখানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয়। আর অন্যদিকে আমেরিকার পছন্দের বেসামরিক সরকারকে পানামার ক্ষমতায় বসানো হয়।

২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুয়াম্মার গদ্দাফি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ মানতেন না। তিনি IMF-এর বিকল্প বিশ্বব্যাংক বানাতে চাইছিলেন। এমনকি তিনি ডলারে খনিজ তেল বিক্রির প্রবল বিরোধী ছিলেন। আর তাঁর সময়কালে লিবিয়া, রাশিয়া ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। ব্যাস, সাধারণ মানুষকে রক্ষার দোহাই দিয়ে লিবিয়ায় আক্রমণ চালায় আমেরিকা। পরে গদ্দাফিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ।

এছাড়াও, আরও অনেক দেশে ছলে-বলে কৌশলে সরকার ফেলে, সেখানের অধিকার কায়েম করেছে আমেরিকা। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থাই দেখে নিন!

বাংলাদেশের কথা বলতে মনে পড়ল, রাশিয়া ছাড়াও আরও একটি কমিউনিস্ট দে চিনকে নিয়েও আমেরিকা কিছুটা ভীত। কারণ, চিনও অর্থনৈতিক এবং নিজেদের প্রযুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ। এরাও অর্থ এবং প্রযুক্তি দিয়ে বিভিন্ন দেশে নিজেদের অধিকার কায়েম করার চেষ্টা করে। এমনকি, বর্তমানে বাংলাদেশ এবং নেপালের সরকার পতনের মূল কারণ হিসাবে চিনের প্রভাবকেই দায়ী করেন একাধিক বিশেষজ্ঞরা।

এবার আপনাদের জানাবো, কী করে এই অসম্ভবকে সম্ভব করে আমেরিকা?

কখনও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ, কখনও বা পরোক্ষ উস্কানি, কখনও বা কিনে নেওয়া রাজনৈতিক নেতা, দেশের সামরিক বাহিনী, বিরোধী সরকার আর মিডিয়াকে – এই বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেই কোনও দেশের সরকার ফেলে আমেরিকা। এমনকি দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশে মার্কিন-পন্থী সরকার থাকলেও, যখন তাদের দিয়ে খুব বেশি লাভ পাচ্ছে না আমেরিকা, তাদের অবলীলায় হত্যা করা হয়।

এছাড়া ১৯৮৩ সালে CIA-র তরফ থেকে একটি প্লেবুক প্রকাশিত হয়, যার নাম সাইকোলজিক্যাল অপারেশন ইন গরিলা ওয়ারফেয়ার। সেই বইতে লেখা আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার ফেলার বিভিন্ন মডিউল। এই মডিউল পড়লে একটা প্যাটার্ন চোখে পড়ে। যেমন – CIA একটি দেশ বেছে নেয়, যারা আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী নয়। এবার সেই দেশের সরকারকে ভিলেন বানানো হয়, আর কোনও একজনকে হিরো বানানো হয়, দেওয়া হয় বড় বড় অ্যাওয়ার্ড।

এরপর সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো হয় প্রোপাগান্ডা, উস্কে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষদের। আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে ফান্ডিং দিয়ে নামানো হয় রাস্তায় প্রতিবাদ করার জন্য। আর এই প্রতিবাদ হিংসার রূপ নিলে মৃত্যু ঘটে সাধারণ মানুষ অথবা হিরোর। আর সবশেষে হয় সরকারকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়, নাহলে হয় সামরিক অভ্যুত্থান।

অর্থনৈতিক হিটম্যান হিসাবে পরিচিত জন পারকিন্স, আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সাথে কাজ করতেন। তিনি নিজের বই কনফেশন অফ অ্যান আমেরিকান হিটম্যান-এ উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাজ ছিল অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলিকে বা পিছিয়ে পড়া দেশগুলিকে এটা বোঝানো যে আমেরিকা তাদের উন্নয়নের জন্য ঋণ দেবে। আর সেই ঋণ দিয়েই সেই দেশে আধিপত্য কায়েম করা শুরু করে।

এবার আমরা জানবো, কেন এবার আমেরিকার টার্গেটে রয়েছে গ্রীনল্যান্ড-ইরান!

ভিডিওর শুরুতেই আমরা ভেনেজুয়েলার পর আমেরিকার পরবর্তী টার্গেট হিসাবে গ্রিনল্যান্ড, কলম্বিয়া, ইরান, আর কিউবার কথা বলেছিলাম। এখন প্রশ্ন এদের থেকে কী লাভ করতে চায় আমেরিকা?

প্রথমেই আমরা বলবো গ্রীনল্যান্ডের কথা। গ্রীনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল। এই আইল্যান্ডে রয়েছে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের রেয়ার আর্থ যা ইলেকট্রিক ভেহিকেল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে কাজে লাগে। যার ফলে ইলেকট্রিকের সবথেকে বড় বাজার চিনকে টেক্কা দিতে পারবে আমেরিকা। এছাড়া, ধীরে ধীরে গ্রিনল্যান্ডের আশেপাশের বরফ যত গলবে, তত কম সময়ে হবে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে শিপিং, এবং বাড়ানো যাবে নৌ-গতিবিধি। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে থুল এয়ারবেস। একটি গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকান বেস যা রাশিয়ার মিসাইল এবং চিনা সাবমেরিনকে ট্র্যাক করতে কাজে লাগবে। তাই গ্রিনল্যান্ডকে দখল করলে এই সবকিছুই পাবে আমেরিকা।

এরপরেই আমরা কথা বলবো ইরান নিয়ে। অনেকেই বলবেন, একবার যখন সেখানের সরকার আগেই ফেলেছে আমেরিকা, তাহলে এখন আবার কেন চাইছে? আপনাদের জানিয়ে দিই – ইরানে অপারেশন অ্যাজাক্সের পর মার্কিন পন্থী শাসক তো ফিরে আসে, কিন্তু ইরানের সমস্যা শেষ হয় না। দেশে মার্কিন প্রভাব বাড়তে থাকে, কিন্তু দারিদ্রতাও বাড়তে থাকে। ফলত দেশে একসময় হয় ইসলামিক রেভোলিউশন। আর সরকারে আসে পশ্চিম বিশ্বের বিরোধী সরকার। ফলত, আরও একটি তেল বিশ্বের কবজা হারিয়ে ফেলতে পারে এই ভয়ে সেখানে নতুন করে শুরু হয় সরকার ফেলার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র।

গত ৪৭ বছরে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে সরকার ফেলার। তবে, সরকার না ফেলতে পারলেও, সেই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করছে CIA। যেভাবে ভেনেজুয়েলায় চাপানো হয়েছিল একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, সেইভাবেই চাপানো হয়েছে ইরানের ওপর। সেই দেশ এখন ভেনেজুয়েলার মতোই পরিস্থিতিতে রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দাম তলানিতে, দেশের জনগণ সরকার বিরোধী। এমনকি ৮ই জানুয়ারি দেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে দেশের মানুষকে। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযোগ ছিল তারা নাকি আমেরিকায় মাদক পাচার করছে, আসল উদ্দেশ্য কী তা আমরা জেনে গিয়েছি। আর ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযোগ তারা নাকি আমেরিকার বিরুদ্ধে নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। জানলে অবাক হবেন, এই নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের মূল ধাতু ইউরেনিয়াম প্রথম ইরানের হাতে তুলে দেয় স্বয়ং আমেরিকাই।

তবে আমেরিকাকে আটকানোর কী কোনও উপায় নেই?

আমেরিকা এতদিন ধরে সমস্ত দেশেই যে সফল হয়েছে তা কিন্তু নয়। ইতিহাস বলছে, ১৯৫২ সালে কিউবা, ১৯৬৫ সালে ইন্দোনেশিয়া, আর ২০১১ সালে সিরিয়ায় নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে পারেনি আমেরিকা।

সালটা ১৯৫২। কিউবার রাষ্ট্রপতি কার্লোস প্রিও সকারাস ভূমি সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। যার ফলে কিউবার চিনি শিল্প থেকে শুরু করে ব্যাংক, টেলিফোন, বিদ্যুৎ, রেল – সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ হারাত আমেরিকা। তাই সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কার্লোসকে সরায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে, এই ক্ষমতা বেশীদিন টেকেনি, কারণ ১৯৫৯ সালে, ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা নেতৃত্বে শুরু হয় কিউবান বিপ্লব

এর পরেও ১৯৬১-র দিকে কাস্ত্রো সরকারের পতন ঘটাতে চায় CIA। কিন্তু, দেশের জনগণ আর সামরিক বাহিনী আগের মতো বিক্রি হয় না, তারা কাস্ত্রোকে সমর্থন করে এবং আমেরিকাকে পিছু হটায়। যার ফলে পলায়নে বাধ্য হয় আমেরিকা।

একই ঘটনা ঘটে ২০১১ সালে সিরিয়াতে। সরকার ফেলার উদ্দেশ্যে ভেনেজুয়েলার মতোই হামলা চালানো হয় সিরিয়ায়। কিন্তু, ব্যর্থ হয়। কারণ সেই দেশের বেশি সংখ্যক মানুষ আর সেনা সরকারের সাথে ছিল। এমনকি সেই বিপদের সময়ে বন্ধু দেশ রাশিয়া বিমান হামলা, ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে সিরিয়াকে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ইরান আর হিজবুল্লাহ অর্থ আর অভিজ্ঞ যোদ্ধা পাঠায়। যুদ্ধে সিরিয়া ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, আমেরিকা পিছু হটে।

অর্থাৎ, একটা বিষয় পরিষ্কার – যদি কোনও দেশের প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্র থাকে, দেশের সরকারের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন থাকে, আর দেশের মানুষ যদি ঠিক থাকে – সহজে আমেরিকা কেন কেউই কোনও দেশের সরকার ফেলতে সচেষ্ট হবে না।

তবে ভারতের ওপর কী কোনও হামলা চালাতে পারে আমেরিকা?

বর্তমানে ভারতের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। তবে ভারতের ওপর আমেরিকা হামলা করবে না। প্রথমত, ভারতের সেরকম কোনও বিশাল তেলের ভাণ্ডার নেই। আর সোনা, তামা বা রেয়ার আর্থের কোনও বড় খনিও নেই। অন্যদিকে, কৃষিভিত্তিক এই দেশে কমিউনিজম সরকারও নেই।

তবে, BRICS সদস্য হিসাবে ডিডলারাইজেশনের চেষ্টা এবং রাশিয়া ও চিনের বন্ধুত্ব কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে আমেরিকাকে। তাই, বর্তমানে ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা আর প্রতিবেশী দেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ করে আমাদের কিছুটা ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। হামলা না করলেও, সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে ভারতের সরকার ফেলে দিয়ে, মার্কিন পন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা করার।

আপনার কী মনে হয়, আমেরিকা কি কখনও ভারতের সাথে এমন কিছু করতে পারবে?

Leave a Comment