সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নতুন বছরের শুরুতেই ভারতের অর্থনীতিতে অস্বস্তির ছবি। এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা (Foreign Exchange Reserves India)। রিপোর্ট বলছে, এক বছরের মধ্যেই মুহূর্তে বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার সর্বনিম্ন স্তরে ঠেকেছে। তবে নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে? তাহলে কি দেশের অর্থনীতিতে আবারও ধস নামছে?
কতটা কমল বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার?
আসলে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। হ্যাঁ, মোট মূলধন দাঁড়িয়েছিল ৭০,৫০০ কোটি ডলার, আর ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে সেই অংক ছিল ৬৯,৩০০ কোটি ডলার। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়ায় ৬৮,৬০০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় প্রায় ১০০০ কোটি ডলার তলানিতে ঠেকেছে। আর নভেম্বর ২০২৪ এর পর এই প্রথম এত বড় পতন দেখা গেল বলেই মত প্রকাশ করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কেন কমছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার?
আসলে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার দুর্বলতা, রফতানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের লগ্নি তুলে নেওয়া। সরকার দাবি করছে, আমেরিকার নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাবে ভারতের রফতানিতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। তবে বাস্তবে পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। বিশেষ করে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভারতের অর্থনৈতিক চাপ পড়তে শুরু করেছে। এমনকি সম্প্রতি ট্রাম্প আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের চিন্তাভাবনা করেছে।
আরও পড়ুনঃ সংক্রান্তিতে কাঁপাবে শীত, শৈত্যপ্রবাহ দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায়, আজকের আবহাওয়া
উল্লেখ্য, শুধু বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার নয়, বরং দেশের আর্থিক বাজারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ মিউচুয়াল ফান্ডের তহবিলেও দেখা যাচ্ছে পতন। ২০২৪ সালে যেখানে মিউচুয়াল ফান্ডে মোট তহবিল দাঁড়িয়েছিল ৪ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যেই ৫০ হাজার কোটি টাকা তলানিতে ঠেকেছে। আর এর পিছনেও রয়েছে বড়সড় দুটি কারণ। প্রথমত, নতুন করে বিনিয়োগের প্রভাবে অনেকটাই কমে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, বহু বিনিয়োগকারীর পুরনো টাকা তুলে নেওয়া।
আরও পড়ুন: সোনার দামে বিরাট বদল, কী বলছে রুপো? কিনতে যাওয়ার আগে জানুন আজকের রেট
কিন্তু হ্যাঁ, এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ মিউচুয়াল ফান্ড অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, এসআইপি বা সিস্টেম ইনভেসমেন্ট প্ল্যানের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখনও পর্যন্ত অটুট। আর বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বিনিয়োগকারীরা এসআইপি-র উপর এখনও ভরসা রাখছে। যদিও বড় অংকের বিনিয়োগের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। আবার একই সঙ্গে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের দিকেও ঝুঁকছে বহু মানুষ। কারণ, সেখানে নিরাপদে বিনিয়োগ করা যায়।