প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়, বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও যোগ্যতার মানদণ্ডে বড়সড় জট তৈরি হয়েছে। টেট পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আর এই আবহে ফের গর্জে উঠল প্রাথমিক শিক্ষকদের (Primary Teachers) একাংশ। ২০১১ সালের আগে নিযুক্ত রাজ্যর প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষকদের টেট দেওয়া থেকে অব্যহতি চেয়ে চিঠি দিলেন তাঁরা।
বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন জমা শিক্ষকদের
জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মিছিল করা হয়েছিল। এবং মিছিলের মাঝে বিকাশ ভবনে গিয়ে তাঁরা ডেপুটেশন জমা দেন। তাঁদের দাবি,“ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট পাস হতে হবে। যাঁরা টেটে পাস নন, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে টেট পাস করে যেতে হবে। আর এই নির্দেশে প্রায় ৭০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ বাংলা, অসম থেকে চলবে ৯টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, কোন কোন রুটে ছুটবে দেখুন
বিশেষ দাবী শিক্ষকদের
প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন যে, “২০১১ সালের আগে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে নিযুক্ত শিক্ষকেরা সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের আওতায় পড়ছেন না। তাই রাজ্য সরকার যখন টেট পাশহীন শিক্ষকদের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে, তখন এই শিক্ষকদের নাম পাঠানো যাবে না। কারণ ২০১১ সালের ২৯ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতেই বলা ছিল, যে সব রাজ্যে ওই বছরের আগে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে, সেই রাজ্যগুলিতে ২০০১ সালের নিয়োগ-নীতি অনুযায়ী ছাড় দিতে হবে।” আর এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষামহলে।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে I-PAC মামলার মুলতুবি চাইল ইডি
প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বিকাশ ভবনে জানিয়েছি যে, এই রাজ্যে ২০১১ সালে যে নিয়োগ হয়েছিল, তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে পরীক্ষা হওয়া, প্যানেল তৈরি সবই ২০১০ সালে হয়েছিল। কিন্তু প্যানেল প্রকাশ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা হওয়ার কারণে আমাদের নিয়োগ হয় ২০১১ সালের পরে। তাই ওই নিয়োগকে ২০১১ সালের আগেই বলতে হবে। তাই যাঁদের নিয়োগ-প্রক্রিয়া ২০১১ সালের আগে হয়েছে, তাঁদের নাম পাঠানো যাবে না। একই অভিযোগ তুলেছেন বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা। তিনি মনে করেন, এত বছর প্রাথমিক স্তরে পড়ানোর পরে ফের টেট পাশ করতে বলা তাঁদের কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক।’