প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন দখল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি। শাসকদলও কম যাচ্ছে না, উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে এবার বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। জনসংযোগ বাড়াতে দলের শীর্ষ নেতারা অঞ্চলে অঞ্চলে ঘুরবেন, করবেন একাধিক কর্মসূচি। এমতাবস্থায় তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিয়ে ফের গর্জে উঠলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সমাজমধ্যমে করলেন এক বড় পোস্ট।
জোর করে দোকান দখল জেহাদিদের
রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, উত্তরবঙ্গের ফালাকাটা থানার দেওগাঁও অঞ্চলে প্রমোদ কৃষ্ণ আর্য, বাবুরাম দাস, দীপক দাস ও সঞ্জয় সরকারের দোকান জবরদস্তি বেশ কিছু জেহাদিরা জোর করে দখল করে নিয়েছে। আর এই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন সেখানকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন সবটা দেখেও নীরব ছিল। আর সেই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের কার্যকলাপকে সার্কাস বলে অভিহিত করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন এই মূহুর্তে নেই, প্রশাসন সম্পূর্ণ ভাবে শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে সরকার চলছে না সার্কাস বোঝা দায়।
নিচের ভিডিওটি উত্তরবঙ্গের ফালাকাটা থানার দেওগাঁও অঞ্চলের। সেখানকার দোকানের পাড়ে প্রমোদ কৃষ্ণ আর্য, বাবুরাম দাস, দীপক দাস ও সঞ্জয় সরকারের দোকান… pic.twitter.com/m2LA6YSHqi
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 15, 2026
কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দোষ দিয়ে জানিয়েছেন যে, “পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন এই মূহুর্তে নেই, পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে সরকার চলছে না সার্কাস বোঝা দায়। বর্তমানে এই রাজ্যে মমতা সরকারের তোষণনীতি চরমসীমায় পৌঁছে গিয়েছে, উদ্দেশ্যে সেই ভোটব্যাঙ্ক, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিজের কুর্সি টিকিয়ে রাখতে হবে। সুতরাং এই সব জেহাদিরা রাজ্যের যেখানে যা খুশী করুক তাদের বিরুদ্ধে কোনোও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।”
আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রী রাম’ না বললে সিগারেটের ছ্যাকা, চাকদহে আক্রান্ত মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক
হিন্দুদেরকে একত্র হওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “রাজ্যের হিন্দুদের একত্রিত হয়ে অবিলম্বে মমতা সরকারটাকে শিকড় সমেত উপড়ে ফেলতে হবে, না হলে আগামী দিনে হিন্দুদের ভিটে মাটি সব এভাবে প্রশাসনের সামনেই দখল হবে, আর হিন্দুদের সব খোয়াতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সব হারিয়ে হিন্দুরা একসময় পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন, এর পর তাঁদের ভাবতে হবে তাঁরা কোথায় যাবেন? তাই সময় থাকতে হিন্দুরা এই হিন্দু বিরোধী মমতা সরকারকে উৎখাত করতে অবিলম্বে একত্রিত হন।”