সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্বের অন্যতম নামি ব্রিটিশ অ্যারো-ইঞ্জিন নির্মাতা সংস্থা Rolls-Royce এবার ভারতের উপর বড়সড় কৌশলগত বাজি ধরতে চলেছে (Rolls-Royce in India)। হ্যাঁ, সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে তারা যুক্তরাজ্যের বাইরে ভারতকে তাদের তৃতীয় হোম মার্কেট হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আর এই ঘোষণা ভারতের বিমান এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যে নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কেন ভারতের দিকে ঝুঁকছে Rolls-Royce?
আসলে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশীল বিমান এবং প্রতিরক্ষা বাজারগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। কারণ, এখানে বেসামরিক বিমান পরিষেবা দ্রুত সম্প্রসারণ হয়, এমনকি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার পিছনে ভারতের জুড়িমেলা ভার। আর উন্নত প্রযুক্তি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং বিনিয়োগ রয়েছে এখানে। এই তিনটি কারণেই ভারত এখন Rolls-Royce এর কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়তে পারে বিনিয়োগ?
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থা UK in India একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে, Rolls-Royce এই পরিকল্পনার ফলে ভারতের জন্য একাধিক ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি, নৌ বাহিনীর জন্য উন্নত প্রপালশন সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং ও হাইটেক ম্যানুফ্যাকচারিং। আর এই উদ্যোগ ভারত-যুক্তরাজ্য প্রযুক্তিগত সহযোগীতাকে যে আরও শক্তিশালী করবে তাও নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
UK in India এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে ভারত এবং যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা দিনের পর দিন গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা এবং বিমান শিল্পে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩১ বছর বয়সেই ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন KKR এ খেলা ভারতের বিস্ময়কর স্পিনার
প্রসঙ্গত, Rolls-Royce এর ভারতে এটা নতুন করে প্রবেশ নয়, বরং ভারতের সঙ্গে এদের সম্পর্ক বহুদিনের। বর্তমানে সংস্থাটির ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি সেন্টার তো রয়েছেই, পাশাপাশি ভারতীয় সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রয়েছে। এমনকি স্থানীয় সাপ্লাই চেইন এবং উৎপাদন সহযোগিতা ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে এই সংস্থা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছে, ভারতকে হোম মার্কেট হিসেবে বিবেচনা করা মানেই ভারতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, লোকাল ম্যানুফ্যাকচারিং এবং দক্ষতা উন্নয়ন। পাশাপাশি মেক ইন ইন্ডিয়া প্রযুক্তিতে আরও উন্নত করা এবং কর্মসংস্থান বাড়া।