সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলাজুড়ে বিভিন্ন রুটে ছুটে চলেছে লোকাল ট্রেন। আর এই লোকাল ট্রেনের সবার হয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে এই বৃহৎ পরিমাণে রেল নেটওয়ার্ক চালানো কিন্তু মোটেও মুখের কথা নয়। এদিকে নিত্যদিন লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করতেও সাধারণ মানুষকে যথেষ্ট ঝক্কি পোহাতে হয়। যেমন ট্রেন বাতিল থেকে শুরু করে ট্রেন দেরিতে চলা কিংবা যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার ভয়ে সবসময় তাড়া করে সাধারণ যাত্রীদের। এই না পরিস্থিতিতে এবার রেলে তরফে বিরাট বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। মূলত দুর্ঘটনা রোধ করতে এবার বাংলার বহু রুটের লোকাল ট্রেনে কবচ সিস্টেম (Kavach System In Bengal) ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত নিল রেল। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।
কী বলছে রেল?
এই বিষয়ে রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘কবচ’ বসানো এবং কার্যকর করা হচ্ছে বাংলার একাধিক রুটে। পূর্ব রেল ডিভিশনের এই লোকাল ট্রেন রুটগুলি কবচ সিস্টেমের আওতায় চলে এলে নিরাপত্তা বাড়বে অনেকটাই। ফলে লোকাল ট্রেনের দুর্ঘটনা আটকানো সম্ভব হবে বলেই রেল মন্ত্রকের তরফে দাবি।
আরও পড়ুনঃ এখনই কমছে না শীত, দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় হাড় কাঁপানো ঠান্ডা, আজকের আবহাওয়া
সূত্রের খবর, পূর্ব রেলের আওতাধীন ৪৪৩ কিলোমিটার রুটে ‘কবচ’ (অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন) প্রযুক্তি বসানোর অনুমোদন চলে এসেছে। সেজন্য খরচ হবে ২২৩.৮৩ কোটি টাকা।
কোন কোন রুটের ট্রেনে কবচ বসবে?
- ১) হাওড়া-সাঁতরাগাছি।
- ২) লিলুয়া-বেলুড় মঠ।
- ৩) তারকেশ্বর-গোঘাট।
- ৪) ময়নাপুর-বিষ্ণুপুর।
- ৫) রামপুরহাট-দুমকা।
- ৬) আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ।
- ৭) লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা।
- ৮) কাঁকুড়গাছি-বালিগঞ্জ।
- ৯) কল্যাণী-কল্যাণী সীমান্ত।
- ১০) কৃষ্ণনগর জংশন-আমঘাটা।
- ১১) কৃষ্ণনগর সিটি-লালগোলা।
- ১২) মুর্শিদাবাদ-আজিমগঞ্জ।
- ১৩) আসানসোল-বার্নপুর।
- ১৪) বরাচক-হীরাপুর।
- ১৫) বক্তারনগর-অন্ডাল।
আরও পড়ুনঃ গতি ১৩০ কিমি, ভাড়া ২১০ টাকা! দেখুন শিয়ালদা-বারাণসী অমৃত ভারতের স্টপেজ, টাইমিং
কবচ কী?
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন যে কবচ বিষয়টি ঠিক কী? আসলে এটি একটি দেশীয়ভাবে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা (ATP) সিস্টেম, লোকো পাইলটদের গতি সীমা বজায় রাখতে সহায়তা করে। যদি লোকো পাইলটরা ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তবে কবচ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করবে। প্রতিটি ট্রেনে এই কবচ স্থাপন নিয়ে রেলের অনেক প্ল্যান রয়েছে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “কবচ স্থাপনের কাজ প্রাথমিকভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক কিছু দুর্ঘটনার পর, সরকার এখন ১০ বছরের পরিবর্তে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র রেল নেটওয়ার্কে কবচ স্থাপনের দিকে মনোনিবেশ করছে।”