পোস্ট অফিসের কর্মীদের চাপ বাড়িয়ে নয়া নিয়ম

Post office

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আপনিও কি পোস্ট অফিসে (Post Office) চাকরি করেন বা করবেন বলে ভাবছেন? তাহলে আপনার জন্য রইল জরুরি খবর। ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পলিসি কোম্পানিগুলি কর্মীদের চাকরির শুরু থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় কোন কাজ কতটা টার্গেট নির্ভর। এখন এমনকি বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসেও এরকম টার্গেট নির্ভর চাকরি রয়েছে তবে এবার পোস্ট অফিসেও সেই একই জিনিস ঘটতে চলেছে। কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে পোস্ট অফিসের কর্মীদেরও পলিসি করার টার্গেট দিল ডাক বিভাগ। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

এবার পোস্ট অফিসের কর্মীদেরও টার্গেট নির্ভর কাজের নির্দেশ

সূত্রের খবর, প্রতিটি ডাকঘরকে আলাদা আলাদা টার্গেট দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ মেনে সেই মতো আধিকারিকরা আবার কাজও শুরু করে দিয়েছেন বলে খবর। এমনিতেই কর্মীর অভাবে পোস্ট অফিসগুলো ধরছে তারপর সরকারের তরফে এরকম নিয়ম চাপিয়ে দেওয়াকে মোটেও মেনে নিতে রাজি নয় বহু কর্মীরা। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য বলা হয়েছে। টার্গেট নির্ভর কাজ প্রসঙ্গে এক আধিকারিক বলেন, পোস্ট অফিসগুলিতে যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী নেই। তারপর একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন একাধিক বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন সুযোগ দিয়ে বিমার স্কিম চালু করেছে। পোস্ট অফিস সাড়া জাগানো তেমন বিমা আনেনি। তাছাড়া এখন আর আগের মতো পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার মতো আগ্রহ গ্রাহকদের নেই। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় দিয়েছে। এর আগে একাধিক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। পোস্টাল লাইফ ‌ইন্সুরেন্স এবং রুরাল পোস্টাল লাইফ ইন্সুরেন্স করার জন্য বলা হয়েছে। এলআইসির মতো সংস্থাকে পলিসি করার জন্য বেগ পেতে হচ্ছে।

ডাক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য জোর দিতে বলা হয়েছিল। সেই উদ্যোগও নাকি তেমন সাফল্য পায়নি। এদিকে নতুন করে পোস্টাল এজেন্ট বহুদিন নিয়োগ করা হয়নি। নয়া নিয়ম প্রসঙ্গে এক পোস্টাল এজেন্ট বলেন, ডাক বিভাগ কমিশন বাড়ায়নি। অনেকে কাজ করতে উৎসাহী নয়। কমিশন একটু বাড়ানো হলে অনেকেই কাজে উৎসাহ দেখাতেন।

চাপ বাড়ছে কর্মীদের

পোস্ট অফিসের আধিকারিকদের কাজের চাপ আগের থেকে অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। অথচ প্রতিটি ডাকবিভাগের জন্য টার্গেট নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যেমন আসানসোল-১ সাবডিভিশনের জন্য ২৫০, দুর্গাপুর মহকুমার জন্য ২৫০, রানিগঞ্জের জন্য ৫০জনকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বিমা করানোর জন্য বলা হয়েছে। এভাবে রাজ্যের প্রতিটি পোস্ট অফিসকেই টাগের্ট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে সকলকেই বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে দাবি অধিকারিকদের।

Leave a Comment