বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন থাকলে এক ক্লিকে ঘরে বসেই পাওয়া যায় নতুন জামাকাপড় থেকে শুরু করে স্মার্টফোন, টিভি, টু হুইলার থেকে সবজি সহ যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ডিজিটাল মাধ্যমের দুনিয়ায় ভারতীয়দের সবচেয়ে পছন্দের দুই ওয়েবসাইট আমাজন এবং ফ্লিপকার্ট। এবার এই দুই ই-কমার্স সাইটের বিরুদ্ধেই উঠলো গুরুতর অভিযোগ (Fine On Amazon Flipkart)। জানা গিয়েছে, দেশীয় সংস্থা ফ্লিপকার্ট এবং বিদেশি ই-কমার্স সংস্থা আমাজন নাকি দেশের নিরাপত্তার কথা না ভেবে একেবারে অবৈধভাবে অনলাইনে ওয়াকিটকি বিক্রি করছে। এই দুই প্ল্যার্টফর্ম ছাড়াও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি বিক্রির জন্য একাধিক ই-কমার্স সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কীভাবে প্রকাশ্যে এলো সব?
প্রাথমিকভাবে খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা সিসিপিএ গোটা বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায় বেশ কিছু ই-কমার্স ওয়েবসাইট কোনও রকম প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই অনলাইনে ওয়াকিটকি অর্থাৎ ব্যক্তিগত মোবাইল রেডিও ডিভাইস বিক্রি করছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কম করে 16, 970টি ওয়াকিটকি ডিভাইস তালিকাভুক্ত করেছে সিসিপিএ। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির দাবি, আইন লঙ্ঘন করেই এই ডিভাইসগুলি বিক্রি করছিল ফ্লিপকার্ট, আমাজনের মতো সংস্থা।
করা হয়েছে জরিমানা
প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া অনলাইনে ওয়াকিটকি বিক্রির কারণে এবার আমাজন, ফ্লিপকার্ট, মিশো এবং মেটা বা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। জানা যাচ্ছে, এই চার সংস্থাকে 44 লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেককে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি বিক্রির জন্য 10 লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
এ নিয়ে ভোক্তা বিষয়ক সচিব নিধি খারে জানিয়েছেন, “এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি শুধুমাত্র অবৈধভাবে ওয়াকিটকিই করেনি, সেই সাথে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছে।” তাঁর দাবি, “ইতিমধ্যেই নির্দেশ মেনে বেশ কিছু সংস্থা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা পরিশোধ করে দিয়েছে। বাকি সংস্থাগুলির জরিমানা পরিশোধের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।” বলাই বাহুল্য, উপরিউক্ত চার সংস্থা ছাড়াও JioMart, Chimia, Talk Pro এবং Maskman Toys এই চার সংস্থাকেও 1 লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: KKR-র বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারতেন মুস্তাফিজুর রহমান! কিন্তু তিনি যা করলেন…
প্রসঙ্গত, ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী 446.0 থেকে 446.2 মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের ওয়াকিটকিগুলি কোনও রকম অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। এই নির্দিষ্ট সীমার বাইরের ওয়াকিটকিগুলির জন্য ইকুইপমেন্ট টাইপ অনুমোদন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। তবে জাতীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ তদন্তে দেখেছে, অনলাইনে বিক্রি হওয়া ওয়াকিটকিগুলি 446.0 থেকে 446.2 মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের বাইরে। শুধু তাই নয়, এগুলি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ETA সার্টিফিকেটও নেই সংস্থাগুলির কাছে।