প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগের জট কাটবে কবে, প্রশ্ন তুলছেন এসএসসি-র পরীক্ষার্থীরা। একদিকে যেমন রয়েছেন নতুন পরীক্ষার্থীরা, অন্য দিকে তেমনই ২০১৬ প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি হারানো ‘যোগ্য’ প্রার্থীরা। বিতর্ক যখন দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে, সেই আবহে ২০১৬ প্যানেল বাতিল প্রসঙ্গে বৃহত্তর চক্রান্তের দাবি টেনে আনলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
মামলার বৈধতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
রিপোর্ট মোতাবেক, আদালতের নির্দেশে গত বুধবার রাতে দাগি অথচ চাকরি না পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেখানে ২৫০ জন শিক্ষক পদপ্রার্থীর নাম রয়েছে এবং ‘দাগি’ শিক্ষাকর্মী পদপ্রার্থী যাঁরা চাকরি পাননি, তাঁদের সংখ্যা ছিল ১৮৫৩। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সেই দাগিদের তালিকায় নাম রয়েছে মূল মামলাকারী নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গার। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬–র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুযোগ না–পাওয়া যে চাকরিপ্রার্থীরা পরে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম এই লক্ষ্মী তুঙ্গা। এদিকে নাম প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে মূল মামলার বৈধতা নিয়ে। চাকরিহারা ‘যোগ্য’দের দাবি, তাঁরা বৃহত্তর ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার’। এবার সেই একই সুর তুললেন ব্রাত্য বসু।
আরও পড়ুনঃ পেনশন বৃদ্ধি, EPF-ESI এ বেতনের ঊর্ধ্বসীমা! ২০২৬-র বাজেটে হতে পারে একাধিক ঘোষণা
কী বলছেন ব্রাত্য বসু?
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন, “বঞ্চিত বলে যাঁর নামে মামলা হল, বিশেষ আইনজীবীরা যাঁর হয়ে লড়লেন, তাঁর নামই রয়েছে ‘দাগি’দের তালিকায়। বোঝাই যাচ্ছে পুরোটাই পরিকল্পিত। যার খানিকটা উন্মোচিত হল। আমার মনে হয়, এ শুধু হিমশৈলের চূড়া মাত্র।” অর্থাৎ তিনি দাবি করছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যাতে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ইস্যুতে কোনও সুবিধা করতে না পারে, তাই নিয়োগ বানচাল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের টেস্ট কবে? নতুন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ
সময়ের মধ্যেই হবে নিয়োগ, জানালেন ব্রাত্য বসু
এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও ব্রাত্য বসু এদিন শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সাফ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নিয়োগ বানচাল করার চেষ্টা করা হলেও, সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই নিয়োগ সম্পন্ন করবে সরকার। সামনে যতই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন হোক না কেন, ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেই নিয়োগ সংক্রান্ত কাজ চলবে, থমকে থাকবে না।