টেট পাশ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ

West Bengal Board Of Primary Education

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়, বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও যোগ্যতার মানদণ্ডে বড়সড় জট তৈরি হয়েছে। এই আবহে কেন্দ্রের তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল রাজ্যের থেকে ২০১২ এর নিয়োগে টেট উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে কতজন চাকরি করছেন? এবার সেই নামের তালিকা পর্ষদের (West Bengal Board Of Primary Education) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হল। জানা গিয়েছে, ২০১২ টেট উত্তীর্ণ হয়েছেন এমন প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এই মুহূর্তে কর্মরত।

টেট পাশ না হওয়া তালিকা প্রকাশের নির্দেশ কেন্দ্রের

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট পাস বাঞ্ছনীয়। যাঁরা টেটে পাস নন, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে টেট পাস করে যেতে হবে। টেট উত্তীর্ণ না হলে যুক্ত থাকা যাবে না শিক্ষকতার কাজে, আর এই নির্দেশে প্রায় ৭০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্য। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকেও। এরই মাঝে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে ‘টেট’ না দিয়ে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন এমন শিক্ষকদের তালিকা জানাতে রাজ্যগুলিকে ১৫ দিন আগেই চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। এবার নামের তালিকা প্রকাশ করল পর্ষদ।

নামের তালিকা প্রকাশ পর্ষদের

পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১২ টেট পরীক্ষায় ১৯ হাজার উত্তীর্ণ হলেও প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এই মুহূর্তে কর্মরত। অথচ তাঁদের কাছে টেট পাশের নাকি কোন শংসাপত্র নেই। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের সমস্ত স্তরের শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই শিক্ষকদের টেট পাশের তথ্য IOSMS পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই সমস্যায় পড়েছিলেন ২০১২ সালে নিযুক্ত বহু শিক্ষক। এদিকে ২০১২ টেট উত্তীর্ণ কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তালিকা প্রকাশ না করলে তাঁরা টেট পাশ না করা শিক্ষকদের তালিকায় পড়ে যেতেন।‌ তাই তড়িঘড়ি নামের তালিকা প্রকাশ করা হল।

জানা গিয়েছে, রাজ্য শিক্ষা দফতর ১৪ জানুয়ারি, বুধবার রাতে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে নথি চাওয়া হয়েছে। আগামীকাল অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেই নথি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পূরণ করে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পর্ষদের প্রকাশিত তালিকায় শিক্ষকদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর, প্রার্থীর নাম, ক্যাটাগরি (ওবিসি, এসসি, এসটি, পিএইচ ইত্যাদি) এবং প্রাপ্ত নম্বর সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকাটি ইতিমধ্যেই পিডিএফ আকারে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: কবে হবে নিয়োগ? ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তুলে বড় মন্তব্য করলেন ব্রাত্য বসু

কী বলছেন পর্ষদ সভাপতি?

পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, “সে সময় ১০০ নম্বরের টেট আয়োজিত হত। কিন্তু কোনও শংসাপত্র দেওয়া হত না। ২০১২ টেট উত্তীর্ণ অনেকেই এখন প্রাথমিক শিক্ষক। শংসাপত্র না থাকায় জটিলতা বাড়তে পারে। তাই তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হল।” আশা করা যাচ্ছে, পর্ষদের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে।

Leave a Comment