শনিবারও উত্তপ্ত বেলডাঙা, ভাঙা হল লেভেল ক্রসিং, আক্রান্ত সাংবাদিকরা

Beldanga Violence

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমত মারমুখী হয়ে উঠেছে বেলডাঙা (Beldanga Violence)। গতকাল সড়ক এবং রেলপথ অবরোধের পরেও এখনও উত্তপ্ত পরিস্থিতি এলাকায়। সকাল থেকেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে পরপর। এমতাবস্থায় খবর করতে গিয়ে গিয়ে ফের ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়ল এবিপি আনন্দ এর সাংবাদিকরা। প্রশ্ন উঠল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বিক্ষোভের চিত্র জনতার কাছে তুলে ধরতে গিয়ে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতোকে। রাস্তায় ফেলে রীতিমত লাথি, কিল, চড়, ঘুষি দেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্ত থাকার বার্তা দিলেও বিক্ষোভ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হল না। আজও, বেলডাঙায় ফের আক্রান্ত হল এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ।

ফের আক্রমণের শিকার সাংবাদিকরা

জানা গিয়েছে, আজ, বেলডাঙায় খবর কভার করছিলেন সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ। কিন্তু হঠাৎই দেখা যায় কিছু বিক্ষোভকারী পিছন থেকে ছুটে আসেন। হাতে রয়েছে বাঁশ। রাস্তার ধারে থাকা যাবতীয় ফ্লেক্স-ব্যানার উপরে ফেলা হচ্ছে। লাথি মারা হচ্ছে তার উপরে। ভাঙচুর করা হয়েছে রেল গেট। আটকে রয়েছে ট্রেন। বন্ধ লালগোলা-কৃষ্ণনগর রুটের ট্রেন চলাচল। পাশাপাশি সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার এবিপি আনন্দর চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকেও মারধর করা হয়। কিন্তু এত কিছু হওয়ার পরেও এলাকায় একজনও পুলিশকেও দেখা গেল না। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে বেলডাঙা থানা কাছেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

আরও পড়ুন: নতুন বছরে চরম ভোগান্তি, সরকারের এক সিদ্ধান্তে অনেকেই পাচ্ছেন না রেশন

গতকাল যখন পরিস্থিতি তপ্ত হয়েছিল সেই সময় প্রশাসনের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠক হয় বিক্ষোভকারীদের। পেশ করা হয় বেশ কিছু আবেদন, যদিও সেগুলি মেনে নেন প্রশাসন। তারপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। আজ সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “রাজ্যে প্রশাসন নেই তাই হচ্ছে। নেতারাই তো সমাজ-বিরোধী কাজ করছেন। তাহলে এই বাংলায় আর কী হবে? কোথাও রোড শো আর কোথাও ভাঙচুর এই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের হাল।

আরও পড়ুনঃ পেনশন বৃদ্ধি, EPF-ESI এ বেতনের ঊর্ধ্বসীমা! ২০২৬-র বাজেটে হতে পারে একাধিক ঘোষণা

শেষ আপডেট অনুযায়ী,  কৃষ্ণনগর এবং লালগোলার মধ্যে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ কে দেউস্কর জানিয়েছেন, বেলডাঙার পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী (আরপিএফ, আরপিএসএফ) পাঠাচ্ছেন তাঁরা। নতুন করে উত্তেজনার খবর পেয়ে বেলডাঙায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল সংখ্যক পুলিশও।

Leave a Comment