প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ঝাড়খণ্ডে বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে উত্তাল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Incident)। টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয় জাতীয় সড়ক এবং রেলপথ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। আজও বেলডাঙায় অবরুদ্ধ করা হয় জাতীয় সড়ক। কিন্তু, গতকালের মত আজও পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই অভিযোগের বেড়া ভেঙে জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে ময়দানে নামল বিশাল পুলিশ বাহিনী। করা হল লাঠিচার্জ।
অবশেষে মুখ খুললেন জেলা পুলিশ সুপার
দু’দিন ধরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা কার্যত জ্বলছে। বেপরোয়া ভাবে জাতীয় সম্পত্তি নষ্ট করা হচ্ছে, রেল অবরোধ হচ্ছে। এমতাবস্থায় একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে। কেন পুলিশ নিষ্ক্রিয়? কেন পুলিশের কাছে আগাম খবর ছিল না? প্রশাসনের ভূমিকা কী? কোথায় পুলিশ? কেন আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “অবরোধ হয়েছিল ঠিকই কিন্তু আমরা তুলে দিয়েছি। পরিস্থিতি নর্মাল হয়ে গেছে। হঠাৎ করে তো লাঠি চালানো যায় না। আগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। যখন দেখলাম এভাবে হবে না, ওরা পাথর ছোড়া শুরু করতেই লাঠিপেটা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।”
এলাকায় রুটমার্চ করে পুলিশ
জানা গিয়েছে, আজও বড়ুয়ামোড়েই দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে তাণ্ডব চালানো হচ্ছিল। এরপরই পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল একটা বাহিনী এসে পৌঁছায় বড়ুয়ামোড়ে। নামানো হয় পুলিশ, ব়্যাফ ফোর্স। হাতে টিয়ার শেল নিয়ে জমায়েত সরানো হয়। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে একটা জমায়েত দেখতে পেয়ে বেলডাঙা স্টেশনের রেল ট্র্যাক ধরে টিয়ার শেল ও গার্ড নিয়ে এগিয়ে যায় লাঠিধারী পুলিশ ও ব়্যাফ। পরে এলাকা শান্ত হয়ে যাওয়ায় বড়ুয়ামোড়-সহ আশপাশের এলাকায় রুটমার্চ করে পুলিশ। সঙ্গে চলে চিরুনি তল্লাশি।
আরও পড়ুন: পরিচারিকার শ্লীলতাহানী কলকাতা পুলিশের কর্মীর! বিরোধিতা করায় চোরের অপবাদ
কৃষ্ণনগর এবং লালগোলার মধ্যে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দকে দেউস্কর বেলডাঙার পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর নির্দেশও দেওয়ার পরেই স্টেশনে টহল দিচ্ছে আরপিএফ। এদিকে রেল স্টেশনে যে কটি দোকান খোলা ছিল, সেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জিনিসপত্র লুঠ করার অভিযোগ তুলে দোকানদারেরা। তবে সেই সাবজেক্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে এই মুহূর্তে বেলডাঙ্গার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।