তৃণমূলের পোষা গুন্ডারাই সাংবাদিককে মেরেছে, মালদায় বেলডাঙা নিয়ে মুখ খুললেন মোদী

Narendra Modi on Beldanga Incident

সৌভিক মুখার্জী, বেলডাঙা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তাদের দাবি, প্রথমে মারধর করে খুন করা হয়। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেখানে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন জি ২৪ ঘন্টার মহিলা সাংবাদিক। এবার তা নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে ধুয়ে দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi on Beldanga Incident)।

ঘটনাটি কী?

আসলে শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর পৌঁছয়। জানা যায়, তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। পেশায় তিনি ফেরিওয়ালা ছিলেন এবং কাজের সূত্রে বিজেপি শাসিত রাজ্য ঝাড়খণ্ডে থাকতেন। রিপোর্ট অনুযায়ী,  ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে গ্রামবাসীরা দাবি করে, আলাউদ্দিনকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। এমনকি খুনের প্রমাণ লোপাট করার জন্য তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তে গোটা এলাকায় হুলুস্থুল বেঁধে যায়, এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে পথে নামে স্থানীয়রা। এমনকি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেই চলে বিক্ষোভ। এমনকি রেললাইন অবরোধ করে দেওয়া হয়। আর প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা ধরে এই অশান্তি চলতে থাকে। তার জেরে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছিল। এমনকি পুলিশের একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ওই বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটে আহত হয় অন্তত ১২ জন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি। আর খবর সংগ্রহ করতে গিয়েই সেখানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিলেন জি ২৪ ঘণ্টার মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি। অভিযোগ ওঠে, বেলডাঙায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি তাঁর শরীর স্পর্শ করা হয়। হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। সেই কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

আরও পড়ুন: প্রতিবাদের নামে বেলডাঙায় তাণ্ডব, কেন আগেই লাঠিচার্জ নয়? মুখ খুলল পুলিশ

তবে এদিন মালদার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তৃণমূলের একটি প্রভাবশালী চক্র দিনের পর দিন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে রাজ্যের প্রকৃত গরিব মানুষরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আর যুবকরা কাজের সুযোগ হারাচ্ছে। এই কারণেই নারীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে। বাংলায় মেয়েদের কোনও সুরক্ষা নেই। তৃণমূলের গুন্ডারাই ওই মহিলা সাংবাদিককে নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে আর মেরেছে।

Leave a Comment