সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) সরকারি কর্মীদের অধিকার নয়। এমনটাই জানাল রাজ্যের বাম সরকার। ডিএ সংক্রান্ত এক মামলায় কেরল হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ডিএ দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণভাবেই সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এটা কোনও রকম বাধ্যতামূলক সুবিধা নয়। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোড় আলোচনা। বিশেষ করে বাংলার ক্ষেত্রে বিষয়টি এখন আলোচনায়।
কী বলল রাজ্য সরকার?
সম্প্রতি কেরল হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এক মামলায় রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বর্তমান রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি চাপের মুখে। এই অবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, ডিএ কোনও সাংবিধানিক অধিকার নয় বা বেতনের অংশ নয়। এটি সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং নীতির উপর নির্ভরশীল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, কেরল সরকারের কাছে কর্মীদের মোট ছয় মাসের ডিএ বকেয়া, যার আনুমানিক পরিমাণ ১৭,৭০০ কোটি টাকা।
তবে সরকারি কর্মীদের বক্তব্য, রাজ্যের আর্থিক অবস্থার জন্য দায়ী সরকার। তার জন্য কর্মীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও কোনওরকম সুরহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। তবে কর্মীদের এই যুক্তির জবাবে কেরল সরকার আদালতে জানিয়েছে, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ডিএ দিলে রাজ্যের উপর এমন চাপ পড়বে যা সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন: অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকছে না RAC, ৫০ কিমিতে দিতে হবে ২০০ কিমির ভাড়া
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সবথেকে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বামদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ডিএ’র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী সংগঠনগুলি আন্দোলনে নেমেছে। বিক্ষোভ, ধর্না এমনকি নবান্ন অভিযানের মতো কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। অথচ যে রাজ্যে সিপিএম ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানেই আদালতে দাঁড়িয়ে তারা বলছে যে, ডিএ কোনও অধিকার নয়। আর এ নিয়েই রাজনৈতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। ভোটের মুখে বিষয়টি বাংলায় যেমন বামফ্রন্টকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, ঠিক তেমনই কেরলে তৈরি হতে রাজনৈতিক জলঘোলা। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।