কোচিংয়ে পড়ার টাকা ছিল না, বেচতে হয়েছিল শেষ জমিটুকুও! ২০ বছরেই DSP হন চিত্রা

Success Story Of DSP Chitra Kumari

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হাজার বাধার মধ্যে সাফল্যকে ছুঁয়ে দেখা যদি চ্যালেঞ্জ হয়, তবে সেই পথে কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা কোনও শক্তি। সেটাই যেন একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন চিত্রা কুমারী (Success Story)। মাত্র, 20 বছর বয়সে চরম দারিদ্রতা এবং প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে তাঁর ডেপুটি সুপারেনডেন্ট অফ পুলিশ বা DSP হয়ে ওঠার কাহিনী চোখে ভেজাতে বাধ্য অনেকের। যে মেয়েটার কাছে টিউশন পড়ার টাকা ছিল না সে কীভাবে মাত্র 20 বছরেই পুলিশের এত বড় পদ পেলেন জানতে ইচ্ছা হচ্ছে নিশ্চয়ই?

DSP চিত্রার জীবন সংগ্রাম হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর অনুপ্রেরণা

ছেলেবেলা থেকেই লেখাপড়ায় বেশ মেধাবী ছিলেন চিত্রা। আজকালকার ছেলে মেয়েরা যেখানে বুঝতে শেখা মাত্রই হাতে স্মার্টফোন নিয়ে বসেন, সেই পর্বে দাঁড়িয়ে নিজের বাল্য বয়সে বইকেই সঙ্গী বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বিহারের বাসিন্দা চিত্রার বাবা সুরেশ প্রসাদ চাকরি করতেন একটি বেসরকারী ব্যাঙ্কে। মা গৃহবধূ। বাবার যেটুকু যা আয় তা দিয়েই কোনও মতের টেনেটুনে চলত সংসার। তবে 2008 সালে চিত্রার বাবা চাকরি হারালে সংসারে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে!

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে কর্মহীন হয়ে পড়ায় কীভাবে দুবেলা দু’মুঠো পেট পুরে খাবেন সে কথা ভেবে ভেবেই দিনরাত এক করে ফেলতেন চিত্রারা। সময় যত গড়াচ্ছিল ছিল পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছিল। সন্তানের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সাংসারিক খরচ চালাতে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নেন চিত্রার বাবা। বিক্রি করে দেন নিজের অন্যতম সম্বল জমিটুকুও। এরপর সেই অর্থ ব্যাঙ্কে জমিয়ে যা সুদ পেতেন তা দিয়েই মেয়ের লেখাপড়া এবং সংসারের খরচ চালাতেন সুরেশ বাবু।

চিত্রার পরিবার সূত্রে খবর, একটা সময় এমনও গিয়েছিল মেয়েকে BPSC পরীক্ষার জন্য যে কোচিং ক্লাসে পড়বেন সেই অর্থও ছিল না তাদের কাছে। ফলে কোনও রকম কোচিং বা টিউশন না নিয়েই নিজে নিজে অন্যান্য বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন চিত্রা। পরবর্তীতে বাবার জমানো অর্থ ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে ছোট ছোট পদক্ষেপ ফেলতে সাহায্য করেছিল তাঁকে। চিত্রা পণ করেছিলেন আর যাই হোক DSP হয়েই ছাড়বেন তিনি।

অবশ্যই পড়ুন: অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকছে না RAC, ৫০ কিমিতে দিতে হবে ২০০ কিমির ভাড়া

সারাদিন নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতেন চিত্রা। জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের। পরিবারের সহায়তা এবং নিজের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত BPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন চিত্রা। তখন তাঁর বয়স মাত্র 20 বছর। বিহারের বক্সারের বাসিন্দা চিত্রা জানিয়েছেন, কোনও রকম টিউশন বা কোচিং ক্লাসে না গিয়েই BPSC পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে 67 র‍্যাঙ্ক আসে তাঁর। বর্তমানে নিজ রাজ্য বিহারেই DSP হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লড়াকু নারী চিত্রা। সমাজের বহু সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের দাবি, চিত্রার এই জীবন সংগ্রাম দেশের হাজার হাজার ছেলে মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।।

Leave a Comment