তামিলনাড়ুতে কাজে গিয়ে মৃত্যু বাংলার ৩ পরিযায়ী শ্রমিক, শোকের ছায়া মুর্শিদাবাদে

Migrant Workers Death

সৌভিক মুখার্জী, মুর্শিদাবাদ: ফের ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রাণহানি বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers Death)। এবারের ঘটনাস্থল তামিলনাড়ু। দক্ষিণের এই রাজ্যে নির্মাণ কাজ চলাকালীন পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদে তিন পরিযায়ী শ্রমিকের। দুর্ঘটনার খবর আসতেই বাংলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা যাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম ওবাইদুর রহমান, বয়স ২৪, যার বাড়ি মুর্শিদাবাদে সুতি থানার তালতলা এলাকায়। দ্বিতীয় জন হাবিল শেখ, বয়স ৩৯। তাঁর বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার কাকুরিয়া গ্রামে এবং তৃতীয় জন নাজমুল হক, বয়স ৩৩। তাঁর বাড়ি সুতি থানার শংকরপুর এলাকায়।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে মুর্শিদাবাদ জেলার কয়েকজন শ্রমিক একজন লেবার কন্টাক্টরের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁরা নীলগিরি জেলার আরবান কাটোয়া এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে শনিবার দুপুরবেলা পাহাড়ের গায়ে বাড়ির ফাউন্ডেশন তৈরির কাজ চলাকালীন আচমকা পাহাড়ের একটি বড় অংশে ধস নামে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই মাটি চাপা পড়ে যান বাংলার ওই তিন পরিযায়ী শ্রমিক।

খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করে। জেসিবি মেশিন দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাটি সরানোর পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করে। স্থানীয় থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একই দলে কাজ করা শ্রমিক শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ আমরা পাহাড়ের মাটি কেটে ফাউন্ডেশনের কাজ করছিলাম। হঠাৎ করে বিশাল অংশে ধস নামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা মাটি চাপা পড়ে। আমরা চিৎকার করে সাহায্য চাই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তিনি আরও জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদেরকে বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুন: ২৮০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, কলকাতার ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল ইডি

রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই মৃত তিনজন শ্রমিক তামিলনাড়ুর কুন্নুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সেখান থেকেই নিত্য কাজের জায়গায় যাতায়াত করতেন তাঁরা। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মুর্শিদাবাদের গ্রামের বাড়িতে তাঁদের পরিবারের মধ্যে শুরু হয় হাহাকার। বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদেরকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Comment