সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আর হাতেগোনা কয়েকটা মাস বাকি। তারপরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সম্প্রতি বেলডাঙার রাজনৈতিক উত্তেজনার দায় চাপানোর জন্য তৃণমূলের সাসপেন্ডের নেতা হুমায়ুন কবিরকেই ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার তা নিয়েই সরব হলেন ভরতপুরের বিধায়ক (Humayun Kabir on Abhishek Banerjee)।
কী বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন বহরমপুর জেলার সদর শহরে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, বেলডাঙার ঘটনার পর দলের অন্দর এবং বাইরের বহু মানুষ ওই দিনের কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি তা মানেননি। বেলডাঙার অশান্তির খবর পাওয়া পর অনেকেই আমাকে রোড শো করতে না বলেছিলেন। তবে আমরা এগিয়ে এসেছি। কারণ, এই হিংসা বিজেপি এবং এক গদ্দারের উস্কানিতেই হয়েছে। আর সভা না করলে তারা আরও সাহস পেত।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে, অভিযুক্ত গদ্দারকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত করে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনে তার আসল চেহারা সামনে আনা হবে। মূলত নাম না করেই তিনি হুমায়ুন কবীরকে তিনি আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেন, যারা মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করে, তাদেরকে রাজনীতি থেকে বিদায় করাই উচিত। বাবরি মসজিদের নাম করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তারা কোনও দিনও জয়লাভ করতে পারবে না।
ক্ষোভ উগরে দিলে হুমায়ুন কবীর
এদিকে আজ ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবীর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক হাত নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বেলডাঙার ঘটনার জন্য আমার উপর দায় চেপানোর চেষ্টা করছে অভিষেক। এমনকি আমাকে গদ্দার বলে আখ্যা দিয়েছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, হুমায়ুন কবীর কারও দয়ায় রাজনীতি করে না। আমি মানুষের ভোটেই নির্বাচিত প্রতিনিধি। যারা আমাকে গদ্দার বলেছে, তারা হয়তো ভুলে গেছে যে আমি সব সময় শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষদের অধিকার নিয়ে কথা বলি। আর যখনই আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তখন আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে। যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানো গদ্দারি হয়, তাহলে আমি সেই গদ্দারি করতে রাজি আছি।
আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে কাজে গিয়ে মৃত্যু বাংলার ৩ পরিযায়ী শ্রমিক, শোকের ছায়া মুর্শিদাবাদে
এমনকি এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। হুমায়ুন বলেছেন, আমি প্রশ্ন করতে চাই যে প্রশাসন কার হাতে? পুলিশ কার কথায় চলে? বেলডাঙা যখন জ্বলছিল, তখন সবাই নীরব কেন ছিল? নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অন্য একজন জনপ্রতিনিধির উপর দোষ চাপানোটা কাপুরুষতা ছাড়া আর কিছুই নয়। মুর্শিদাবাদের মাটি বীরের মাটি। এই জেলার মানুষকে বোকা বানিয়ে কোনওভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না। কেন্দ্র আর রাজ্য উভয় সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি বলে তারা আজ ভয় পেয়েছে। আমাকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ, তারা জানে যে জনতা উন্নয়ন পার্টি এখন মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আপনারাই আমার শক্তি। আপনারা পাশে থাকলে কোনও হুমকি বা অপমান আমাকে দমাতে পারবে না।