বাংলাদেশে খুন আরেক হিন্দু, ঝামেলা থামাতে যাওয়ায় হত্যা হোটেল ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র ঘোষকে

Bangladesh Hotel Owner Death

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামান্য ঝামেলা থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক হোটেল ব্যবসায়ী (Bangladesh Hotel Owner Death)। ওপার বাংলার গাজীপুরের কালীগঞ্জে দোকানের কর্মীকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন লিটন চন্দ্র ঘোষ। বয়স ৫৫। আর এই ঘটনায় ঘটায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক পরিবারের তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ কালিগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার সকালবেলায় স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম মিয়া ওই হোটেলে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। তবে ওই সময় হোটেলের তরুণ কর্মচারী অনন্ত দাসের সঙ্গে কোনও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আর মুহূর্তের মধ্যে সেই কথা কাটাকাটি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মাসুমের বাবা মহম্মদ স্বপন মিয়া এবং মা মাজেদা খাতুন। অভিযোগ ওঠে, তাঁরা দুজনেও মারধরের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।

তবে এই পরিস্থিতি দেখে নিজের কর্মীকে রক্ষা করতে গিয়ে এসেছিলেন হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র দাস। তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত তিনজন ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন চন্দ্রের উপরেই ঝাপিয়ে পড়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে বেলচা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত স্বপন মিয়া, তাঁর স্ত্রীর মাজেদা খাতুন এবং ছেলে মাসুম মিয়াকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। আর এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঝলসে মৃত্যু ৩ জনের, আহত বহু

জানিয়ে রাখি, নিহত লিটন চন্দ্র দাস যিনি স্থায়ীভাবে কালী ঘোষ নামেও পরিচিত, তিনি চান্দাইয়া এলাকার বাসিন্দা নির্মল চন্দ্র বোসের ছেলে। আর তিনি কালিগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় বৈশাখী সুইটমিট এন্ড হোটেলের মালিক ছিলেন বলেই খবর। এলাকায় একজন শান্ত স্বভাবের ব্যবসায়ী হিসেবেই তাঁর নাম ডাক। তবে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার থেকে শুরু করে তাঁর আপনজন।

Leave a Comment