বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রবিবার, বাংলার পালাবদলের আঁতুড়ঘর সিঙ্গুরে পৌঁছে একাধিক নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সরকারি মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই শিলান্যাস হল হুগলির বলাগড়ের এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমেরও। একাধিক কর্মসূচি সেরে সিঙ্গুরের বুকে দাঁড়িয়ে একের পর এক কড়া ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সিঙ্গুরবাসীকে অতীত স্মরণ করিয়ে নতুন স্লোগান বেঁধে দিলেন দেশের চৌকিদার। শাসক দল তৃণমূলের পূর্বের প্রতিশ্রুতি নিয়েও তুলোধোনা করলেন তিনি।
নতুন স্লোগান বাঁধলেন প্রধানমন্ত্রী
শনিবার, মালদার বুকে দাঁড়িয়ে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করার পাশাপাশি একাধিক কর্মসূচির পর আজ রবিবার, তিনটি অমৃত ভারত উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন জয়রামবাটী-বড়গোপীনাথপুর-ময়নাপুর নতুন লাইনের উদ্বোধনও হয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। একাধিক সরকারি কর্মসূচি শেষ করে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুরের জনসভা মঞ্চে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। আর তারপরই বাংলা বদলের ডাক দিলেন তিনি।
প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রকল্প গুলির ফলে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন আরও বাড়বে পশ্চিমবঙ্গে।” এদিন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমানে মৎস্য কেন্দ্রিক এবং সামুদ্রিক খাদ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমার স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গ একদিন এতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।” এরপরই প্রধানমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল বদরের সুর। মোদি বললেন, “আমাদের এখন আসল পরিবর্তন চাই। আমি জানি সকলেই আজ এই মনোভাব নিয়েই জনসভায় এসেছেন।” এরপরই বিহারের জঙ্গলরাজের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজ আরও একবার আটকে দিয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা। বাংলাতেও টিএমসির মঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।” এমন বক্তব্যের পরই নতুন স্লোগান বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির সুরে সকলে বলে উঠলেন, “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।”
আর কী কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী?
এদিন সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টানেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গোটা সংসদ, পুরো দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করছে। হুগলি এবং বন্দেমাতরমের সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ। বন্দেমাতরমকে পূর্ণতা দিয়েছেন বঙ্কিমজি।” এদিন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি নেতাজিকেও স্মরণ করতে ভুললেন না প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতিটা কিন্তু বিজেপি সরকারের আমলেই হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গা পুজোকে ইউনেস্কো কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিলেন মোদি।
অবশ্যই পড়ুন: হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারের কমার্শিয়াল জার্নি শুরুর দিন ঘোষণা রেলের
রবিবার, সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলায় পালাবদলের হাওয়া তুলে প্রধানমন্ত্রী খুব পরিষ্কারভাবে জানালেন, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ সহ অন্যান্য মনি ঋষিদের জন্মজয়ন্তীকে জাতীয় স্তরে পালন করার উদ্যোগও নিয়েছে আমাদের সরকার। বিজেপি বিকাশ ও ঐতিহ্য উভয়কেই গুরুত্ব দেয়। আমাদের সরকারের এই মডেলই পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বললেন, বাংলার প্রতিটি জেলার কিছু না কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। প্রত্যেক জেলার মানুষের প্রতিভা, বুদ্ধি এবং সামর্থ্য আছে। বিজেপি প্রত্যেক জেলাকে নিয়েই পরিকল্পনা করবে। আমাদের এক জেলা এক অন্য প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক জেলার স্থানীয় পণ্য উৎসাহ পাবে। বিজেপি সরকার আসলেই প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কড়া নীতি গ্রহণ করবে। বিজেপি এলেই শিল্প হবে।” এদিন বক্তব্য রাখার পাশাপাশি বাংলার বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আমি বাংলার প্রত্যেক তরুণ, কৃষক এবং মা-বোনেদের সেবা করতে চাই। কিন্তু তৃণমূল সরকার আপনাদের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প পৌঁছে দিতে দেয় না। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সাথে শত্রুতা করছে।”