বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রায়শই রেলস্টেশন চত্বরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় কচিকাঁচাদের। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিতান্তই রাগ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। কারও গোটা জগতে কেউ নেই, তাই রেল স্টেশনেই থাকার একেবারে পাকাপাকি ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। সেই সব অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের স্টেশন থেকে উদ্ধার করে রেলের তরফে বিরাট সম্মান পেলেন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (Railway Protection Force) এক দায়িত্ববান মহিলা অফিসার। হ্যাঁ, গত তিন বছরে উত্তরপ্রদেশ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় 1500 জন শিশু-কিশোর কিশোরীকে উদ্ধার করে ভারতীয় রেলের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন RPF অফিসার চন্দনা সিনহা। তাতে মহিলা ঊর্ধিধারীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন সকলে।
এক বছরেই 494 জন শিশুকে উদ্ধার করেছেন চন্দনা
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রেলওয়ে প্রোটেকশন কোর্সের দায়িত্ববান মহিলা অফিসার চন্দনা দেবী শিশু কিশোর উদ্ধার অভিযানে নেমে রেল স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো এমনকি পাচার হতে যাওয়া বহু শিশু, কিশোর-কিশোরিকে উদ্ধার করেছেন। জানা যায়, ওই RPF অফিসার শুধুমাত্র 2024 সালেই 494 জন শিশু উদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একার হাতে তিনি উদ্ধার করেছিলেন 152 জনকে।
সূত্রের খবর, চন্দনার হাতে উদ্ধার হওয়া শিশু, কিশোর কিশোরীদের মধ্যে কাউকে কাজের টোপ দিয়ে ট্রেনে তোলা হচ্ছিল কাউকে আবার শিশু শ্রমিক হিসেবে স্টেশনে কাজ করানো হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে তাঁরা চোখে পড়ে যান চন্দনার। জানা গিয়েছে, চন্দনা এমন অনেক শিশুকে উদ্ধার করেছেন যাঁরা প্রতিনিয়ত স্টেশন চত্বরে অমানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
রেলের তরফে সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন চন্দনা
গত তিন বছরে 1500 জন শিশুকে উদ্ধার করায় চন্দনার কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে রেল। জানা যায়, গত 9 জানুয়ারি রেল স্টেশন চত্বরে শিশু উদ্ধার অভিধানে চন্দনার বড় অবদান থাকায় ভারতীয় রেল তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে। হ্যাঁ, ভারতীয় রেলের তরফে অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। যদিও নিজের প্রাপ্য সম্মান নিয়েই কয়েক ঘন্টার মধ্যে লখনউতে ফিরে এসেই কাজে লেগে পরেন তিনি। এদিন তাঁর কাছে খবর আসে, 3 নম্বর প্লাটফর্মে এক শিশু বসে রয়েছে। তারপরই সঙ্গে সঙ্গে একেবারে অগ্নি কন্যার মতো ময়দানে নেমে পড়েন চন্দনা।
অবশ্যই পড়ুন: হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারের কমার্শিয়াল জার্নি শুরুর দিন ঘোষণা রেলের
2024 সালে অপারেশন ননহে ফরিস্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন চন্দনা দেবী। যদিও সেই দায়িত্ব সামলানোর পরবর্তী সময়েও নিজস্ব উদ্যোগে বহু শিশুকে উদ্ধার করেছেন তিনি। জানা যায়, ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে বড় হয়ে উঠেছিলেন চন্দনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ছেলেবেলায় উড়ান নামক একটি সিরিয়াল দেখে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন জেগে ছিল চন্দনার মনে। স্বপ্ন ছিল, খাঁকি পোশাক গায়ে তুলে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবেন। 2010 এ রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সে নিযুক্ত হয়েই স্বপ্ন পূরণ করে চলেছে ভারতের এই দঙ্গল কন্যা।