লুকোচুরি শেষ রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Prashant Barman

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ এবং খুনের মামলায় এবার বিরাট নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে (Prashant Barman) আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি আগামী শুক্রবারের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, সোমবার বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্ত হিসেবে প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।

আত্মসমর্পণের পরেই হবে জামিনের আবেদন

শীর্ষ আদালত এদিন জানিয়েছে, আত্মসমর্পণের পর প্রশান্ত বর্মণ জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ চাইলে ফের নিম্ন আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে। অর্থাৎ, তদন্তে কোনওরকম ছাড় দিতে নারাজ আদালত।

বলে দিই, গত ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের সাঁতরাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণকার স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ। আর সেই ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম। পুলিশ দাবি করে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত তিনিই। গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের আগে প্রশান্ত বর্মণ বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিধাননগর পুলিশ, এবং তারা কলকাতা হাইকোর্টের ব্যবস্থা হয়।

আরও পড়ুন: ভারতের থেকে সুতো কেনায় বড় সুবিধা বন্ধ করার পথে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার

এরপর গত ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট বারাসাত আদালতের আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছিল। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। তারপর পুলিশ ফের নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল প্রশান্ত বর্মণ। আর সবদিক খতিয়ে দেখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবার তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিল।

Leave a Comment