বেলডাঙা মামলা হাইকোর্টে পৌঁছতেই বড় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

Beldanga Incident

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভিনরাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনা নিয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga Incident) পরপর দু’দিন ধরে চলেছিল ভয়াবহ অশান্তি। রাস্তা রেল অবরোধ, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙা। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে। তাই এই ঘটনার নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অশান্তি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভিন রাজ্যের শ্রমিকের মৃত্যুতে বেলডাঙায় অশান্তি

খবরের শিরোনামে প্রায়ই ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মেরে ফেলার ঘটনা প্রায়ই উঠে আসছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর কদমে চলছে সমালোচনা। কিন্তু সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা নিয়ে গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা৷ জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক হাজার মানুষ। এলাকার বহু হিন্দু পরিবারের দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সামনে থেকেও কোনো রকম থামানো চেষ্টা করেনি বলে অভিযোগ উঠে আসে। এই অবস্থায় রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং NIA তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন। এবার একই আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে উঠল জনস্বার্থ মামলা।

জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টে

ইটিভি ভারতের রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ সোমবার, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের করা হয় দুটি মামলা। শেষে প্রধান বিচারপতির অনুমতি মিলতেই দায়ের হয় জোড়া জনস্বার্থ মামলা। আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার মামলা দুটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার পালা আদালত অশান্তির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: SSC-তে যোগ্য ও অনির্বাচিতদের বয়সের ছাড় নিয়ে বিশেষ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে এর আগেও ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। হিন্দুদের ওপর ভয়ংকর অত্যাচার হয়েছিল, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল একাধিক বাড়ি এবং দোকান। সেই সময়ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আবেদন জানানো হয়েছিল। তখন সেই আবেদনে সবুজ সংকেত দিয়েছিল হাইকোর্টের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।

Leave a Comment