বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “চেষ্টা করলে সব সম্ভব।” বাংলার এই প্রচলিত প্রবাদকে প্রমাণ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার বাসিন্দা তৃপ্তি কলহাঁস তাঁদের মধ্যে একজন (Success Story)। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও যে IAS অফিসার হয়ে ওঠা যায়, সেটাই একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের এই লড়াকু নারী। ছেলেবেলায় স্কুল জীবন চলাকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, দেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিসে ভাল ফল করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে উঠবেন। 4 বারের ব্যর্থতাও তৃপ্তির সেই ইচ্ছায় বাঁধ সাধতে পারেনি।
একটানা ব্যর্থ হওয়া সত্বেও হাল ছাড়েননি তৃপ্তি
কিছু পেতে গেলে কিছু হারাতে হয়। চিরকালই এই মন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন তৃপ্তি। ছেলেবেলা থেকে নিদারুণ সংগ্রাম করেছেন তিনি। লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মকর্তার ট্যাগ নিজের নামের পাশে বসানো। এর জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল তৃপ্তিকে। IAS হওয়ার জন্য নিজের সবটা উজার করে দিয়েছিলেন তিনি। নিজের উদ্দেশ্যে সফল হওয়ার জন্য বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একাধিক সমস্যা। তবে হাল ছাড়েননি তৃপ্তি।
জানা যায়, দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সোজা দিল্লি চলে আসেন তৃপ্তি। সেখানেই 2017 সাল থেকে কমলা নেহেরু কলেজে বিকম অনার্স ডিগ্রি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। সেই ডিগ্রি অর্জনের পর নিজে থেকেই UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে দেন তৃপ্তি। একেবারে শুরু থেকেই পরিবারের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। দিনরাত এক করে সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরে ফল অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে মেলেনি। জানা যায়, প্রথম পর্বে তিন তিনবার UPSC প্রিলিমসে উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। বারবার ব্যর্থ হওয়ায় একপ্রকার নিজের কাছেই হেরে যাচ্ছিলেন উত্তরপ্রদেশের তৃপ্তি। কিন্তু ছোটবেলায় যে স্বপ্নটা দেখেছিলেন সেটাকে এত সহজে ছেড়ে দেবেন?
পরবর্তীতে নিজেকে সামলে তৃপ্তি পণ করেন যাই হয়ে যাক নিজের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত চেষ্টা করবেন। সেখান থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাও ব্যর্থতা গা থেকে মুছে ফেলতে পারেননি তৃপ্তি। চতুর্থ বারের প্রতিষ্ঠাতেও ব্যর্থ হন উত্তরপ্রদেশের মেয়ে। কিন্তু হাল ছাড়েননি। বারবার ব্যর্থ হওয়ায় একপ্রকার হাপিয়ে উঠেছিলেন। ঠিক করেন এক বছর সময় নেবেন। এর ফলে 2022 সালের পরীক্ষায় বসেননি তিনি। যে একটা বছর নিজের জন্য সময় বের করেছিলেন সেই বছরটাতেই নিজের ভুলগুলো শুধরে ফের 2023 সালে শেষ অ্যাটেম্পট দিতে বসেন তৃপ্তি। তাতেই মেলে ফল।
অবশ্যই পড়ুন: তাঁর জমানাতেই বড় বড় লজ্জার রেকর্ড! রইল গম্ভীরের অধীনে টিম ইন্ডিয়ার ব্যর্থতার খতিয়ান
ওই এক বছরের বিরতিই যেন তৃপ্তির জন্য অক্সিজেন জুগিয়েছিল। 2023 সালের সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গোটা দেশের মধ্যে 199 র্যাঙ্ক করেন তৃপ্তি। মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে একেবারে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্য। একবার এক সাক্ষাৎকারে তৃপ্তি জানিয়েছিলেন, “জীবনে ওঠাপড়া থাকবেই। যখন কঠিন সময় আসে তখন ভেঙে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোটাই আসল কাজ।” তৃপ্তি আরও বলেন, “জীবনে যখন কোনও ভাল সময় আসে, তখনই বোঝা যায় ভগবান কেন এত কষ্ট দিচ্ছিলেন।” নিজের সাফল্যের কথা শুনিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তৃপ্তির অনুরোধ, কেউ যেন স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে ভেঙে না পড়েন। সব একদিনে হয় না, কিন্তু একদিন ঠিক হয়।