প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজ্য জুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে সকলে। দিনভর জেলায় জেলায় জনসভা করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি। এমতাবস্থায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়াম প্রসঙ্গে গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে বড় পদক্ষেপ নিল সেনাবাহিনী।
ফোর্ট উইলিয়াম প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মমতা
উল্লেখ্য, নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও প্রশাসনকে ঘিরে উঠে আসা একের পর এক অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়াম প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে শোনা গিয়েছিল, রাজ্য থেকে নাকি নির্বাচনী নাম কাটার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে, যার পিছনে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন, “আমার কাছে খবর আছে, ফোর্ট উইলিয়ামে একজন কমান্ড্যান্ট এসআইআর-এর কাজ করছেন এবং বিজেপি হয়ে পার্টি অফিসের কাজ করছেন।” এরপরেই এই অভিযোগ ঘিরে রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে ডিএ, পেনশন! এবারের বাজেটে বড় চমক দিতে পারে রাজ্য সরকার
প্রতিবাদের জবাবে বড় পদক্ষেপ সেনাবাহিনীর
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পরিধি শুধু ফোর্ট উইলিয়ামেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেছিলেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে ‘সর্বনাশের খেলা’ চলছে। দিল্লি থেকে AI প্রযুক্তির মাধ্যমে বেআইনিভাবে প্রায় ৫৪ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি দিলেন সেনা কর্মকর্তারা। দ্য হিন্দু-র রিপোর্ট মোতাবেক সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের সেনাবাহিনীদের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন। তাই আমরা সকলেই বেশ ক্ষুব্ধ। সেক্ষেত্রে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: “দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে ভালো হত…” মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর, সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?
প্রসঙ্গত, ভারতীয় সেনাবাহিনী বরাবরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে স্বয়ং একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন সুনির্দিষ্ট পদের উল্লেখ করে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন, তখন সেন্সর সাহসিকতা, আনুগত্য এবং দেশের প্রতি তাঁদের উৎসর্গতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। স্বভাবতই, এই নজিরবিহীন এবং গুরুতর অভিযোগের পর ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড বা ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফে এই চিঠি প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পৌঁছয় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে। এখন দেখার পালা এর পরিণতি কী হয়।