প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নিখোঁজ চন্দননগরের বসু পরিবারের রুশ বৌমা ভিক্টোরিয়া জিগালিনা, এমনকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বাঙালি সেনা পরিবারের পাঁচ বছরের শিশুপুত্রকেও। তাই এবার দুজনকে খুঁজে আনার জন্য সময়সীমা বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কেন্দ্রের পক্ষের সওয়ালকারীর অনুরোধে তাঁদের খুঁজে বার করতে অতিরিক্ত সময় দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
নিখোঁজ চন্দননগরের রুশ ‘গুপ্তচর’ বউমা
উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক চন্দননগরের সৈকত বসুকে বিয়ে করার পরে ২০১৯ সাল থেকে ভারতে থাকছিলেন রুশ বৌমা ভিক্টোরিয়া জিগালিনা। সৈকতের দাবি, বিয়ের পরে পরিবার জানতে পেরেছিল, ভিক্টোরিয়ার বাবা রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থা এফএসবি-র অবসরপ্রাপ্ত গুপ্তচর। অন্যদিকে সৈকতের বাবা সমীর বসু ছিলেন ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন কর্তা। অভিযোগ বিয়ের পরে ভিক্টোরিয়া সৈকতের বাবা, প্রাক্তন সেনা অফিসারকে কলকাতায় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যেই চাপ দিত, তখনই পরিবারের সন্দেহ হয় যে ভিক্টোরিয়া নিজেও গুপ্তচর। যদিও পরে ভিক্টোরিয়া এবং সৈকতের ডিভোর্স হয়।
অতিরিক্ত সময় চাইল কেন্দ্র
সৈকত-ভিক্টোরিয়ার একটি পাঁচ বছরের শিশুপুত্র রয়েছে, নাম স্ট্যাভিও। যেহেতু তাঁদের বিবাদ হয়েছে, তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের পাঁচ বছর ছেলে দিল্লিতে বাবা, মায়ের কাছে ভাগাভাগি করে থাকত। কিন্তু সেখানেই ঘটে ছন্দপতন। ভিক্টোরিয়া ছেলেকে নিয়ে কাউকে না জানিয়ে রাশিয়া পালিয়ে যান। তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সৈকত। তাঁর আবেদনে জানানো হয়, ভিক্টোরিয়া বা তাঁর ছেলে কোথায় রয়েছেন তা তিনি জানেন না। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে বিদেশ মন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশ। মামলাও চলে দীর্ঘদিন। এবার সেই মামলায় তদন্তের খাতিরে কেন্দ্র অতিরিক্ত সময় চাইলে আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফোর্ট উইলিয়ামের অফিসারকে নিয়ে উল্টোপাল্টা মন্তব্য! মমতার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ সেনার
কেন্দ্রকে নয়া ডেডলাইন সুপ্রিম কোর্টের
টিভি ৯ বাংলার রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার আদালতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বেঞ্চে রুশ ‘গুপ্তচর বৌমার মামলা উঠলে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, ভিক্টোরিয়া ও শিশুটির সন্ধান পেতে তাঁদের তরফ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি করা হয়েছে। যেহেতু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই আমাদের কয়েক সপ্তাহ সময় দিলে আমরা একটি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করতে পারব।” এরপরই আদালত চার সপ্তাহ সময়সীমা বরাদ্দ করেছে।
প্রসঙ্গত, রুশ গুপ্তচর বৌমার নিখোঁজ মামলায় শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ আগেই জানিয়েছিল যে, তারা এমন কোনও নির্দেশ দিতে চায় না, যা ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এবারেও সেই পথে হাঁটছে। তবে যেহেতু ৫ বছরের এক শিশু এই মামলায় জড়িত তাই শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা জানিয়েছেন যে ওই শিশুর নিরাপত্তা এবং সুস্থতাকে সুনিশ্চিত করা কেন্দ্রেরই দায়িত্ব। তাই, তদন্তে গতি আনতে রুশ ফেডারেশন তদন্ত কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে।