প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: SIR নিয়ে রাজ্য জুড়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার উপর ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রীতিমত ময়দানে নেমে পড়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। আর সেখানেই বারবার আলোচনায় উঠে আসছে সরকারি প্রকল্পগুলি, যার মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অন্যতম। এবার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। অভিযোগ, ৬ মাস বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সাত হাজারের বেশি উপভোক্তা।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে উঠল মামলা
ইটিভি ভারত বাংলার রিপোর্ট মোতাবেক ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলারা একদমই পাচ্ছেন না লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা। বিগত ৬ মাস ধরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন না বলে জানা গিয়েছে৷ তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির সদস্য হওয়ার জন্যই সরকারি প্রকল্প বঞ্চিত হতে হচ্ছে ৷ যদিও এই নিয়ে একাধিক বার জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জেলাশাসক একাধিকবার আশ্বাস দিলেও জানুয়ারি মাস প্রায় শেষ হতে চলল কিন্তু এখনো ঢোকেনি টাকা। তাই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য।
কী বলছেন মামলাকারী?
দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা প্রসঙ্গে মামলাকারী সুনীতা মণ্ডল সাহুর দাবি, রাজ্যের সর্বত্র মহিলারা লক্ষীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন । কিন্তু যেহেতু বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে তাই সেখানকার মহিলা নাগরিকরা পাচ্ছে না কোনো সরকারি প্রকল্পের টাকা। আর এই দ্বিচারিতার কারণে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে মামলা করা হয়। যদিও এর আগে মামলাকারী, বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু এটি জনস্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়। তাই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন জানাতে বলেছিলেন বিচারপতি রাও৷
আরও পড়ুন: তার ছাড়াই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে বিদ্যুৎ, অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন বিজ্ঞানীরা
প্রসঙ্গত, প্রায়শই শোনা যাচ্ছে যে,বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি এই লাইন বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলের তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে! এমতাবস্থায় বিজেপির এলাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা না মেলা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এই মামলা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, “আমরা জেলাশাসক ও বিডিও অফিসে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলাম। সমস্ত নথি জমা করা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাস ধরে ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতেই মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন না।” এবার দেখার পালা মামলা কোন দিকে মোড় নেয়।