প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কিছুদিন আগে কলকাতায় আই-প্যাকের দফতর ও তৃণমূলের আইটি প্রধান তথা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশিকে ঘিরে রাজ্যের সঙ্গে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে জল গড়িয়েছে আদালতে। এমতাবস্থায় রাজ্যের পক্ষে বিরাট রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল অনুমতি ছাড়াই নাকি এবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে রাজ্য।
কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত রাজ্যের!
সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট মোতাবেক, রাজস্থানের নবল কিশোর মীনা নামের এক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তাই ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত নেমেছিল রাজস্থান পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে চার্জশিটও পেশ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত ওই আধিকারিক দাবি করেছেন যে, তিনি যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী তাই একমাত্র কেন্দ্রীয় এজেন্সি দুর্নীতির তদন্ত করতে পারে। অর্থাৎ CBI এর অনুমতি ছাড়া রাজ্য সরকারের পুলিশ তদন্ত পারে না। এই প্রসঙ্গে রাজস্থান হাই কোর্ট ওঠে মামলা। কিন্তু সেখানে বিচারপতি অভিযুক্তের দাবি খারিজ করে দেয়। এরপর ওই কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানালে সেখানেও এবার একই রায় প্রদান করলেন বিচারপতিরা।
বিশেষ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ রাজ্য কেন্দ্র তদন্ত মামলায় রাজস্থান হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’ বা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় কোনও অপরাধ ঘটলে রাজ্য পুলিশ তা খতিয়ে দেখার পূর্ণ অধিকার রাখে। দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট, যার মাধ্যমে সিবিআই ক্ষমতা পায়, তা কোনওভাবেই স্থানীয় পুলিশের সাধারণ তদন্ত করার অধিকার কেড়ে নেয় না। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্থা হলেও, অপরাধের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ চুপ থাকবে না।
আরও পড়ুন: ফের বদলাতে পারে SIR-এর সময়সীমা
প্রসঙ্গত, এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে রাজ্য সংস্থাকে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এদিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৩ সালের একটি পুরনো মামলার উদাহরণ টানে। সেখানেও স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, বিশেষ কোনও সংস্থাকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া মানে অন্য সংস্থার স্বাভাবিক আইনি ক্ষমতা খর্ব করা নয়। শীর্ষ আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এক বড় সাফল্য পেল রাজ্যপুলিশ। আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে দুর্নীতির শিকড় উপড়াতে রাজ্যগুলির আইনি লড়াই আরও সহজ হল।