ধরা পড়লে ৫ বছরের জেল, ট্রেনে পাথর ছোড়া আটকাতে বিশেষ উদ্যোগ রেলের

Indian Railways Take a big step to Stop stone pelting

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ট্রেনে চেপে দূরের গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এমন সময় কোথা থেকে এক পাথর এসে লাগল ট্রেনের জানালার কাঁচে। ফেটে চৌচির বস্তুটি। একটুর জন্য রক্ষে পেয়েছেন যাত্রীরাও। এমন ঘটনার সাথে বিশেষ পরিচিত ভারতীয় রেল (Indian Railways)। সময় যত গড়াচ্ছে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মূলত সে কারণেই যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রেল। চলন্ত ট্রেনে পাথর বৃষ্টি ঠেকাতে প্রযুক্তির আশ্রয়ও নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই নাকি চলন্ত ট্রেনে পাথর বৃষ্টির মতো ঘটনায় কিছুটা হলেও রেশ টানা গিয়েছে।

ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় বেশিরভাগই নাম আসে নাবালকদের

বিগত দিনগুলিতে চলন্ত ট্রেনে যত পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে তাঁর প্রায় 90 শতাংশই ঘটিয়েছে নাবালক এবং কিশোররা। পরবর্তীতে রেলের তরফে সেই সব অভিযুক্ত নাবালকদের চিহ্নিত করা হলেও তাঁদের বয়স কম হওয়ায় আদালতে তোলা যায়নি। ফলে ওই অভিযুক্ত কিশোরদের বাবা-মায়েরা গিয়েছিলেন আদালতে। সেখানেই তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁদের ছেলেমেয়েরা আর ট্রেনে পাথর ছুড়বে না। পরবর্তীতে যদি সেটা হয় সেজন্য দায়ী থাকবেন তাঁরা।

জিআরপির দাবি, বিগত দিনগুলিতে ভারতীয় রেল চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনায় যে ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে কাজ হয়েছে ভালই। গত এক বছরে রেলের খড়গপুর ডিভিশনে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা অনেকটাই বেশি ঘটেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। খড়গপুর ডিভিশনের আরপিএফ সূত্রে খবর, গত বছর অর্থাৎ 2025 এ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় 26টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন 32 জন। তাদের মধ্যে নাবালক ও কিশোরদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

অবশ্যই পড়ুন: বল পায়ে মাঠে ঝড় তোলেন তিনি, ইস্টবেঙ্গলে আসা হচ্ছে না কঙ্গোর সেই বাঘা স্ট্রাইকারের

পাথর ছোড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা নিয়েছে রেল?

জানা যাচ্ছে, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বিগত দু’মাসে খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখা মিলিয়ে একসাথে মোট 10টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের খড়গপুর ডিভিশন। আরপিএফ সূত্রে খবর, যেসব জায়গায় মূলত পাথর ছোড়ার ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে সেইসব জায়গা গুলিকে চিহ্নিত করে ওই এলাকায় বসানো হয়েছিল সোলার ক্যামেরা। রিপোর্ট যা বলছে, ইতিমধ্যেই খড়গপুর-হাওড়া, টিকিয়াপাড়া এমনকি উলুবেরিয়া থেকে বাগনান স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় বসানো হয়েছে একাধিক সোলার ক্যামেরা।

পাশাপাশি এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে খড়গপুর থেকে টাটানগর রেল শাখার ঘাটশিলা এবং গালুডি স্টেশনের মাঝে। এছাড়াও সোলার ক্যামেরা বসেছে ওড়িশার বালেশ্বর স্টেশনের আগেও। আরপিএফ জানায়, এই সোলার ক্যামেরা বসিয়ে ইতিমধ্যেই দুটি ঘটনা চিহ্নিত করা গিয়েছে। আগামীতে এই ক্যামেরা আমাদের লাভের মুখ দেখাতে পারলে অন্যান্য শাখাতেও এই ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের তরফে এও জানানো হয়েছে, যদি কেউ চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়তে গিয়ে ধরা পড়েন তবে রেলের আইনের 153 ধারায় পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে তাঁর।

Leave a Comment