প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের মুড়িগঙ্গায় (Muri Ganga River) দুর্ঘটনার কবলে পড়ল বাংলাদেশী বার্জ। নদীর চড়ায় ধাক্কা মারার ফলে ফাটল ধরে যায়, যার ফলে জাহাজে হু হু করে ঢুকতে থাকে জল। বিপদের মুখে পড়েছিল একাধিক নাবিক। শেষে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রাণ বাঁচল তাঁদের। উদ্ধার হয়েছে ১১ জন। শেষ আপডেট অনুযায়ী প্রত্যেকেই এখন সুস্থ রয়েছেন। কিন্তু কী করে দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
নিউজ ১৮ বাংলার রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থেকে ছাই বোঝাই করে এমভি তামজীদ নামের একটি বাংলাদেশী জাহাজ আসছিল, কিন্তু সেই সময় মুড়িগঙ্গা নদীর চড়ায় হঠাৎ ধাক্কা লাগে। আর ঠিক তখনই বার্জটির মাঝ বরাবর বড় ফাটল দেখা দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা কাত হয়ে নদীতে ডুবে যেতে থাকে। হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয়। সংঘর্ষের ফলে জাহাজের মাঝখানের অংশ ফেটে গিয়ে বড় ছিদ্র তৈরি হয়। হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। ফলে জাহাজটি ডুবতে শুরু করে। ভিতরে আটকে যায় একাধিক কর্মী।
উদ্ধার ১১ জন
বাংলাদেশী বার্জটি ডুবতে দেখে রাতেই নৌকা নিয়ে কাছাকাছি পৌঁছে যান মৎস্যজীবীরা। খবর দেওয়া হয় সাগর থানায়। জানা গিয়েছে, ওই বার্জে ১১ জন ছিলেন। এর মধ্যে একজন ভারতীয় নাবিক ও ১০ জন বাংলাদেশী ক্রু মেম্বার ছিলেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ১১ জন কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনা হয়। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ‘এমভি নাসিরউদ্দিন’ নামে অন্য একটি বার্জে করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সকলেই সুস্থ রয়েছেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: ‘যার বিরুদ্ধে প্রচার করেছি, তাঁর সাথেই সাক্ষাৎ করলাম’ নতুন কিছুর ইঙ্গিত রাজন্যার
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের এই বার্জটিতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ছাই ছিল, তাই সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জেরে ভর্তি করা ছাই নদীর জলে মিশে গিয়েছে। এর ফলে মুড়িগঙ্গায় ব্যাপক জলদূষণের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। যদিও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। তবে কী কারণে বার্জটিতে ফাটল ধরল, তা যেহেতু এখন স্পষ্ট নয় তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সাগর থানার পুলিশ।