বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মরিয়া তিনি। সেই পদক্ষেপে সমর্থন না জানানোয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের 8টি দেশকে শুল্কের ধাক্কা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবি, “মানুষের ভাল লাগুক বা খারাপ, যা করতে হয় আমি করবই।” ফলে, আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের সমালোচনা বেড়েছে। ঠিক সেই আবহে এবার যেন ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (Donald Trump On Narendra Modi)। হঠাৎ ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল মোদির প্রশংসা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প
বুধবার, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় সরব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। মোদি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে আমার সম্পর্ক দারুণ। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। মোদি একজন অসাধারণ নেতা। খুব শীঘ্রই আমরা ভারতের সাথে বাণিজ্যচুক্তি করতে যাচ্ছি।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হঠাৎ ট্রাম্পের মোদি ভক্তি ভাল চোখে দেখছেন না অনেকে। কেউ কেউ তো এও বলছেন, শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প!
বলাই বাহুল্য, এর আগে বেশ কয়েকবার হঠাৎ হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রসঙ্গে পঞ্চমুখ হয়েছিলেন আমেরিকার শাসক। নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করলেও মাঝেমধ্যে ভারতকে ঠুকে কথা বলেছেন তিনি। তবে এবার যেন একেবারে অন্য রূপ ধরা পড়ল ট্রাম্পের। বলে রাখা প্রয়োজন, কিছুদিন আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশের উপর 10 শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাতে আমেরিকার উপর পাল্টা ট্রেড বাজুকা চাপানোর কথা ভাবছিল তারা।
এরই মাঝে ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তির পথে হেঁটেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিরাট বাণিজ্য চুক্তির বার্তা দিয়ে আগামী 25 জানুয়ারি ভারত সফরে আসছেন ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট অ্যান্তনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন। বিশ্লেষক মহলের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির সাথে ভারতের বাণিজ্য হতে পারে সেই আবহে আগেভাগে নয়া দিল্লির সাথে বাণিজ্য সেরে রাখতে চাইছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ভারত সংক্রান্ত বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
অবশ্যই পড়ুন: ঘুরে গেল খেলা, প্রিটোরিয়াকে ফাইনালে তুলেই সমালোচনার মুখাগ্নি করলেন সৌরভ গাঙ্গুলি
এতদিন কেন আটকে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি?
প্রথমত, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতকে বারবার লাল চোখ দেখিয়েছে আমেরিকা। প্রতিবার নরমে গরমে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলবেনা। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থসিদ্ধি করতে ভারতের উপর দুই ধাপে 50 শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দেন মার্কিন শাসক। ফলে ধাক্কা খায় নয়া দিল্লি ওয়াশিংটন সম্পর্ক। এরপরে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যেকার বাণিজ্যচুক্তি গাড্ডায় পড়েছিল। তাছাড়াও আমেরিকান কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপে কৃষি পণ্য, মৎস্য এবং ডেয়ারি পণ্যের ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত করতে চায় আমেরিকা। তাতে অবশ্য রাজি হচ্ছে না ভারত। এখানেই আটকে রয়েছে আমেরিকা এবং ভারতের বাণিজ্যচুক্তি। যদিও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নতুন চুক্তি নিয়ে জট শীঘ্রই খুলবে বলেই আশাবাদী অনেকে।